চাঁদপুর শহরে পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ সদস্য উদাও

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) : | প্রকাশ: ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ০২:২০ পিএম
চাঁদপুর শহরে পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ সদস্য উদাও

চাঁদপুর শহরের এসকে শিল্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ সদস্য কাউকে না জানিয়ে উধাও হয়ে গেছে। পরিবারের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন পিন্টু দাসের স্ত্রী রিমি দাস, বড় ছেলে ১০ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত প্রিয়ম দাস ও ছোট ছেলে রুপম দাস। বুধবার (২৬ আগষ্ট) এ তথ্য নিশ্চিত করেন পিন্টু দাসের নিকট আত্মীয় চাঁদপুর  হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে।

তিনি জানান, শহরে ভাড়া থাকতো পিন্টু দাস তার পরিবারসহ। নানা কারনে ঋণ ছিলো পিন্টু দাসের। সাম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির জনৈক এক ব্যক্তি পিন্টু দাসকে  নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছিলো বলে খবর পাই। আর এর পরই তিনি প্রাণ বাঁচাতে হয়তো স্বপরিবারে চাঁদপুর থেকে চলে গেছেন। এদিকে অপর একটি পক্ষ বলছে, পিন্টু দাস স্বর্ণের বন্দকি ব্যবসা করতো। দীর্ঘদিন তিনি লোকজনের স্বর্ণ বন্ধক রেখে সে স্বর্ণ আর ফেরত দিতে পারছিলেন না। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে লোন নিয়ে ঋণে জর্জরিত হয়েছেন। একাধিক স্থানে দোকান স্থানান্তর করলেও সবশেষ তিনি মদিনা মার্কেটের নীচ তলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালাতেন। সেখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ তিনি বন্ধক রাখতেন তার চার ভাগের একভাগ টাকা মানুষকে দিতেন। এ ঘটনায় রঘুনাথপুরের বাসিন্দা মনসুর খানের ছেলে রাসেল খান দাবী করেন, তিনি আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার পিন্টুর কাছে ৫০ হাজার টাকায় বন্ধক দেন। পরে পিন্টু কে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে তার স্বর্ণালংকার আনতে যান। কিন্তু পিন্টু দাস স্বর্ণ না দিয়ে তিনি তাকে পরের দিন আসার জন্য বলেন। পরবর্তীতে পিন্টু দাস স্বপরিবারে উধাও হওয়ার সংবাদ পান। আমি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। দক্ষিণ গুণরাজদীর জাহিদুল ইসলাম ১২ আনা এবং শুভঙ্কর মজুমদার ১০ আনা স্বর্ণ পিন্টুর কাছে বন্ধক রাখার দাবী করে বলেন, মার্কেটটিতে প্রায় ৫/৬ মাস আগে এস কে শিল্পালয় নামে দোকান ভাড়া নেয় পিন্টু। তার মূল বাড়ী চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। কুমিল্লা এবং মুদাফফরগঞ্জে তাদের আত্মীয় রয়েছে। এখন তিনি উধাও নাকি নিখোঁজ তা জানা নেই।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার ফেরদৌস বলেন, স্বর্ণ ব্যবসার দায়দেনা নিয়ে ঝামেলা থেকে পিন্টু দাস স্বপরিবারে নিজে আত্মগোপনে থাকলে তাকে খুঁজে পাবে কিভাবে? আমাদের কাছে কোন অভিযোগ কেউ করেছে কিনা তা এখনি বলতে পারছি না। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ  বলেন,পিন্টু দাসসহ তার পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ এটা এই মাত্রই জানলাম। আমরা তদন্ত করে বিষয়টি দেখছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে