বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মানসিক প্রতিবন্ধী ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় আটক যুবকের মায়ের বিরুদ্ধে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী শিশুর মাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার এবং আটক ছেলেকে মুক্ত করতে তাঁকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর মা। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং জীবিকা নির্বাহেও সমস্যায় পড়েছেন।
ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, স্বামীর অসুস্থতা ও সংসারের অভাব-অনটনের কারণে তিন সন্তান নিয়ে নিরুপায় হয়ে মোল্লাহাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। ভান্ডারখোলা গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও নিজস্ব বাড়িঘর না থাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
তিনি জানান, গৎ ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ দুপুরে মোল্লাহাট বাজারে এসে ছোট দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন দোকান ও মানুষের কাছে সাহায্য চাইছিলেন। এ সময় তাঁর ১১ বছর বয়সী বড় সন্তান বাজারের অন্যত্র আলাদাভাবে সাহায্য চাইছিল। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টাকা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে মুরগি বাজারসংলগ্ন খান বেকারির উত্তর পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে তাশরিফ খান (২২) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। তিনি গাড়ফা (চরপাড়া) এলাকার মৃত আনিস খানের ছেলে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাশরিফকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর মা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই তাশরিফের মা নার্গিস বেগম মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর ছেলেকে মুক্ত করতে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তাঁর সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ভয়ে প্রকাশ্যে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতেও পারছেন না। ফলে সংসারে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্ধাহারে-অনাহারে দীন কাটছে তাঁদের। এ অবস্থায় নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আটক তাশরিফ খানের মা নার্গিস বেগম। তিনি বলেন, ‘আমি কেন হুমকি দেব? আমার ছেলের নামে অকারণে মামলা দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর আমার কাছে অভিযোগ জানালে আমি বিচার করার আগেই আবার মামলা করেছে। এটা কি মেনে নেওয়া যায়?’