পছন্দমতো স্থানে পোস্টিং না পাওয়ায় বদলি হওয়ার উদ্দেশে যোগদানের পর থেকে উন্নয়নমূলক কাজ, ঠিকাদারদের বিল পরিশোধসহ জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ করছেন না বলে ঈশ্বরদীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। গৎ সাত মাস ধরে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার কার্যক্রম প্রায় অচল হয়ে আছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসান মোহাম্মাদ শোয়াইবের বাড়ি চট্টগ্রামে। তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ঈশ্বরদীতে ইউএনও হিসেবে যোগ দেন এবং একই দিনে পৌরসভার প্রশাসকের অতিরিক্ত দায়িত্ব নেন। যোগদানের পর থেকে তিনি দু-একবার মাত্র অল্প সময়ের জন্য পৌরসভায় গেছেন। জরুরি ফাইল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার কাগজে স্বাক্ষরের জন্য পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের দিনের পরদিন ইউএনও কার্যালয়ে ঘুরতে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাসের পর মাস ফাইল ফেলে রাখছেন এবং ঠিকাদারদের কোনো বিলেই স্বাক্ষর করেননি।পৌরসভার ঠিকাদার আসলাম উদ্দিন জানান, প্রায় এক বছর আগে করা কাজের বিল তিনি এখনও পাননি। তার মতো অন্য ঠিকাদাররাও বিল না পেয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। সূত্রগুলো জানায়, পৌর এলাকার প্রায় সব সড়ক খানাখন্দে ভরে যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার সড়কবাতি নষ্ট থাকলেও মেরামত করা হয়নি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এ ছাড়া চলতি বছর প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকায় ইজারা হওয়া অরণকোলা গরুহাটে প্রতিশ্রুত সংস্কার কাজ এখনও হয়নি।
উপজেলা পর্যায়েও একই চিত্র বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, ইউএনও নিয়মিত অফিস করেন না, অফিসে থাকলেও অধিকাংশ সময় মুঠোফোন ও ল্যাপটপে ব্যস্ত থাকেন। বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে তার সমন্বয় নেই এবং জরুরি ফাইলেও স্বাক্ষর করছেন না। উপজেলা পরিষদ ভবনের ছাদ নির্মাণের কাজ প্রায় সাত মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী বারবার বরাদ্দ চাইলেও তা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বৃষ্টির পানিতে কমপ্লেক্সের ভেতরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোও সংস্কার হচ্ছে না।এসব বিষয়ে বক্তব্য জানতে কয়েক দীন ধরে ইউএনও'র সরকারি নম্বরে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। কার্যালয়ে গিয়েও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে এর আগে জামায়াতের মানববন্ধন ও হাবিবুর রহমানের বক্তব্যের পর তিনি বলেছিলেন, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদীতে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এখান থেকে যেতে চান। তার ভাষ্য, লেখালেখির কারণে বদলি হলে তা তার জন্য ভালো, ওএসডি হলেও আপত্তি নেই এবং সে ক্ষেত্রে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যাবেন।