জামালপুর

প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক একই কর্মস্থলে অতিবাহিত ১১ বৎসর

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৫৮ পিএম
প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবরক্ষক একই কর্মস্থলে অতিবাহিত ১১ বৎসর

জামালপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নিয়ে একাধিক সংবাদপত্রে  খবর প্রকাশ হলেও এখনো দৃশ্যমান নেয়া হয়নি কোন পদক্ষেপ। দীর্ঘ ১১ বছর একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় তিনি সিন্ডিকেট তৈরি করে এখনও প্রভাব  বিস্তার করে রয়েছেন বহাল তরিষতে । যেন দেখার কেউ নেই।

জানাযায় উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদে ২০১৬ইং খৃীঃ নেত্রকোণা থেকে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতিক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে পাঁচ শতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে। অতি সম্পতিক এসব অভিযোগ তুলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগও করেছেন মাদারগঞ্জের চরপাকেরদহের এক শিক্ষক।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাসহ একাধিক দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায়  সংবাদ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখনও টনক নড়েনি। ফলে একনও তার বিরোদ্ধে দৃশ্যমান তদন্ত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে করে ভূক্তভোগি শিক্ষক/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মরতসহ এলাকায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, এতো  অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের পরও  তিনি কীভাবে একই কর্মস্থলে ১১বৎসর যাবত বহাল তরিয়তে রয়েছেন? এলাকাবাসিরা জানতে চায় কার প্রভাবে বারংবার তিনি পাড় পেয়ে যাচ্ছেন ? কার অদৃশ্য ইশারায় কার স্বার্থে তিনি রয়েছেন বহাল তরিয়তে।

ভুক্তভোগি শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, তার বিরুদ্ধে বিগত দিনে জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ কারণে জেলার শিক্ষকগণ তার কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুকি সরকারি/বেসরকারি একাধিক ভুক্তভোগি প্রাথমিক শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন,বিভিন্ন সময় জেলা শিক্ষা অফিসে শিক্ষকরা কাজে গেলে প্রথমে তার ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ যে কোন কাজ করতে হলে মুলত তার মাধ্যমে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়। তাই তার পরামর্শ ব্যতিত কোন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এই সুবাধে তিনি যা আবদার করে থাকেন, তা’পুরণ  না করা হলে কোন কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে জানান। এ কারণে তার  অবৈধ চাওয়া পাওয়া আগে মিটিয়ে দিতে হয় বলে উল্লেখ করেন।

অপরদিকে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান জানিয়েছেন, হিসাব রক্ষক আলী আহমেদ ১১ বছর ধরে একই অফিসে রয়েছেন, এটি সত্য। তবে আমার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকেন তাহলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বলে মন্তব্য করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকার কোন বিধান নেই। যেহেতু আলী আহমেদ ১১ বছর ধরে একই কর্মস্থলে রয়েছেন, তাই তাকেও দ্রুত বদলি করা হবে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে তার কিছু জানা ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন। এবিষয়ে প্রথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তার মোহাম্মদ কামরুল হাসান কাছে  একাধিকবার মোঠুফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোবাইল নং ০১৭১১৩৬১৩৫৬

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে