হঁাটি হঁাটি পা পা করে দেখতে দেখতে সফলতার ছয় বছর পূর্ণ করল চঁাদপুর উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ঈডঈঈও)। নানা চড়াই-উৎরাই পার করে সংগঠনটি আজ চঁাদপুর জেলার নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের অন্যতম শক্ত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মাথা তুলে দঁাড়িয়েছে। সম্প্রতি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চঁাদপুর উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুনিরা আক্তার তঁার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য ও স্মৃতিকথা শেয়ার করেছেন।
ফেসবুক বার্তায় তিনি জানান, ১৯৯২ সালে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের মাধ্যমে তঁার পেশাগত জীবন শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে নাটক, টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও প্রামাণ্যচিত্র তৈরির তাগিদে চষে বেরিয়েছেন দেশের আনাচে-কানাচে। প্রকৃতি ও মানুষের কাছাকাছি গিয়ে কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, বিশেষ করে নারীদের নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতা।
সেই গভীর উপলব্ধি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে ২০০৮ সালে একটি এনজিও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় প্রান্তিক মানুষের পাশে দঁাড়ানোর পথচলা। ঢাকা, চঁাদপুর, বাগেরহাট, খাগড়াছড়ি এবং তৎকালীন সবচেয়ে দুর্গম উখিয়াসহ ৫টি কর্ম এলাকায় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারী আত্মকর্মসংস্থান নিয়ে কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রায় দুই দশকের অভিজ্ঞতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুপ্রেরণায় নিজ জেলা চঁাদপুরে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে চঁাদপুর শহীদ মিনারে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে ‘উদ্যোমী নারী’ শীর্ষক ৭ দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য মেলার আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশের সেই সফল প্রদর্শনীতে বিশেষ সহযোগিতা করেন আমিনুল ইসলাম বাবুল এবং দৈনিক চঁাদপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক ইকবাল হোসেন।
এরপরই বিশ্বজুড়ে শুরু হয় কোভিডের অতিমারি। ঘরবন্দী সেই সংকটময় সময়ে চিটাগং উইম্যান চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলীর দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় চঁাদপুরে উইম্যান চেম্বার প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
মুনিরা আক্তার উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন বাধা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সংগঠনটি আজ শক্ত ভিতের ওপর দঁাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে সংস্থাটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স, জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রেশন এবং দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই (ঋইঈঈও)-এর সদস্যপদ লাভ করেছে। ছয় বছরের এই সফল পথচলায় চঁাদপুরের স্থানীয় প্রশাসন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিল্পী ও সাহিত্যিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করে সভাপতি মুনিরা আক্তার চঁাদপুর উইম্যান চেম্বারের পক্ষে সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি নারীর অগ্রগতি ছাড়া সমাজ উন্নয়ন সম্ভব না।" আগামী দিনগুলোতেও চঁাদপুরের নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে চঁাদপুর উইম্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।