সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১০টি কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮৯০ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে, আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৫ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার শূন্য শতাংশ। শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বোর্ডের গড় পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। সেই হিসাবে দিরাই উপজেলায় পাসের হার বোর্ডের গড়ের চেয়ে ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ কম। উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে জগদল কলেজ থেকে ৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ।ডা. সৈয়দ মনোয়ার আলী আটগ্রাম কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৮ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। দিরাই সরকারি কলেজ থেকে ৯৬৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৪৬৪ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৪৮ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বিবিয়ানা মডেল কলেজ থেকে ৪৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৮৬ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ থেকে ১৩৭ জনের মধ্যে ৩৯ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ২৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৬০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫ জন। বাংলাদেশ ফিমেইল একাডেমি থেকে ৫০ জনের মধ্যে ২৫ জন এবং হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৫১ জনের মধ্যে ৯ জন পাস করেছে। চরনারচর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ১৩ জনের মধ্যে পাস করেছে ২ জন।
তবে উপজেলার আলহাজ্ব আব্দুল মতলিব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ফলাফল সবচেয়ে হতাশাজনক। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক লুৎফুর রহমান বলেন, ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউ পাস করতে পারেনি। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা ভর্তি হয়েছিল, তারা কখনো ক্লাসে আসেনি। এ বিষয়ে অভিভাবকদের জানাতে আমি বাড়ি বাড়ি গিয়েছি।’নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত না থেকেও শিক্ষার্থীরা কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেল, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা নির্বাচনী (টেস্ট) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। এ কারণে তাদের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।