তাহসিফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই, নাক দিয়ে বের হচ্ছিল রক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
তাহসিফের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই, নাক দিয়ে বের হচ্ছিল রক্ত
ছবি: সংগ্রহীত

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পায়নি পুলিশ। তবে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাটের পাশ থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে মরদেহের বাহ্যিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের উচ্চতা ছিল আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। তাঁর মাথার চুল কালো, মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। নাক দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা যায়। তাঁর পেট ফোলা ছিল।

সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাহসিফের বুক, পেট, পিঠ ও দুই পা স্বাভাবিক ছিল। শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর পরনে ছিল কালো রঙের ফুলহাতা কাবলি শার্ট ও সাদা ট্রাউজার।

নৌ-পুলিশের তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাহসিফের হাতে একটি ঘড়ি ও পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

২৮ বছর বয়সী তাহসিফ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে থাকতেন। তাঁর বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর দিনভর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কেনাকাটা করেন তিনি। সন্ধ্যার পর দীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন। এরপর আর ফেরেননি।

পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, রাত ১টা ৩৫ মিনিটে ‘আম্মু আমি আসছি’ লিখে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন তাহসিফ। এরপর তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যরা তাঁর মরদেহের সন্ধান পান।

তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে মামলা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে আলোচনা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটি তাহসিফ ধারণ করেছিলেন বলে আলোচনা রয়েছে। ওই দিন তিনি কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দৃশ্য ধারণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে।

গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাহসিফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণের কারণে বিমান বাহিনীতে তাঁর চাকরি চলে গিয়েছিল কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘হতে পারে।’

একই অনুষ্ঠানে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনার বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তাহসিফ ওই প্রতিবেদনকে ‘প্রোপাগান্ডা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

২০২৫ সালের ৪ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন নিয়ে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) প্রতিবাদলিপি দিয়েছিল। এতে বলা হয়, তাহসিফ সুরিসহ দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর যে দাবি করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তাঁদের বিমান বাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ভিন্ন প্রেক্ষাপটে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসরে পাঠানো হয়েছিল। ওই অভিযোগের সঙ্গে অবসরের সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে জানায় আইএসপিআর।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে