শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো কুয়াকাটা পর্যটন কার্ণিভাল-২০২৬ \

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হলো কুয়াকাটা পর্যটন কার্ণিভাল-২০২৬ \

অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ছাড়াই ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্ণিভাল-২০২৬’ উৎসব সুষ্ঠুভাবে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুইদিনে কার্ণিভালকে ঘিরে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে কুয়াকাটায়। পর্যটক-দর্শনার্থীর সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। এতা মানুষের ভিড় থাকলেও কোন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি। পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যাপক নিরাপত্তা বিধানের কারণে শান্তিপূর্ণভাবে পর্যটন কার্ণিভাল সম্পন্ন হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের কঠোর পরিশ্রম আর দূরদর্শী মনিটরিং ছিল চোখে পড়ার মতো। তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আগত পর্যটক-দর্শনার্থী ও স্থানীয় উপভোগকারী মানুষ। দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে তিনি সরকারের পর্যটন কর্পোরেশন মন্ত্রণালয়ের এই প্রোগ্রামকে সফল ও স্বার্থক করেছেন। শনিবার রাতে সমাপনি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুয়াকাটা পর্যটন কার্ণিভাল-২০২৬ শেষ হয়েছে। রবিবার সকালে বিচ পরিচ্ছন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হয় সকল আনুষ্ঠানিকতা। বিচ ক্লিনিং কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ। 

তবে শনিবার রাতের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শুক্রবার রাতে স্থানীয় শিল্পীদের বিশেষ করে সাদ্দাম মাল, নিজাম উদ্দিন, আলমাস সিকদার ও মাসুদ পারভেজ সাগরের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটি বিশেষ দৃষ্টি কেড়েছে। স্থানীয় সমস্যা উপভোগ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তুলে ধরে প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছেন তারা। শনিবারের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল ইপভোগ্য ও মান সম্পন্ন। দেশবরেণ্য তারকা হাসানের উপস্থিতি মানুষকে উচ্ছ্বসিত করেছে। আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়েছেন। এদিকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে অব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল সরব। সমাগমে আসা মানুষের বাস্তবতাও ছিল অপ্রত্যাশিত। তথ্য কেন্দ্রের সেবা না পাওয়া, ম্যারাথন পর্বে অব্যবস্থাপনা। বিভিন্ন ইভেন্টে আগত তারকা মানের ব্যক্তিবর্গের প্রচার করা হলেও তাঁদের অনুপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এক কথায় কার্ণিভালে উপস্থিত গেস্টদের কোন ধরনের ম্যাসেজ দেয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। এক ধরনের অন্ধকারে ছিল পর্যটক-দর্শনার্থীসহ আগতরা। এছাড়া আবাসিক হোটেল, খাবার হোটেলে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়ার এন্তার অভিযোগ উঠেছে। কুয়াকাটার দর্শনীয় স্পটগুলোতে চলাচলকারী অটোবাইক, টমটম, অটোভ্যান যাত্রী বাহনের নামে ইচ্ছেমতো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কারণে পর্যটক-দর্শনার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। পাঁচদিনের টানা ছুটিতে এমনিতেই বরাবরের মতো পর্যটকের ঢল নামে। এর সঙ্গে কার্ণিভালের বাড়তি উৎসবে সামিল অসংখ্য মানুষ। এই সুযোগকে পূঁজি করে স্থানীয় একটা চক্র পর্যটকের সঙ্গে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেয় বাড়তি টাকা। এ কারণে পর্যটকরা ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেছেন। বিশেষ করে মূল আয়োজক অনন্য মামুনকে নিয়ে এবং তার একটা ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে স্থানীয় উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষ চরম ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেছেন। এমনকি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানস্থলের জায়গা সংকট নিয়েও মানুষ ক্ষুব্ধ মনোভাব পোষণ করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু মন্তব্য \ সফিক জামান তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘ বিচে যে পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে সমুদ্র দূষণ চলছে তাতে মনে হচ্ছে বঙ্গোপসাগর অচিরেই বুড়িগঙ্গায় পরিণত হবে।’ স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর কিংবা একজন পর্যটক কেউ কি এ দায় এড়াতে পারবেন? তিনি নিজেদেরকে দূর্ভাগা জাতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আসাদুল্লাহ হাসান মুসা তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘ যে হোটেলে ৬০০ টাকা দিয়ে এসি রুমে থাকতাম সেই হোটেলে নন এসিকে ১৬০০ টাকায় থাকতে হচ্ছে।’ অনন্য মামুনকে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জনি আলমগীর নামের এক সাংস্কৃতিক কর্মী তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘ কার্ণিভালের নামে মি: অনন্য মামুন কোটি টাকা বাণিজ্য করলেন কুয়াকাটাকে কি দিলেন।’ এমন অসংখ্য ছোট ছোট অসঙ্গতি আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে স্যোশাল মিডিয়া শুক্রবার থেকে সরব রয়েছে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, তারা আয়োজকদের তাঁদের সাধ্যমতো সহায়তা করেছেন।  অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার বিষয় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান জানান, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে কোন ঘাটতি ছিল না। ফলে এতো বড় একটা অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে