রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে গোলাগুলি ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তাৎক্ষনিক তা জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন’-এর যৌথ উদ্যোগে তিন দফা দাবিতে এই অবরোধ শুরু হয়। সকালে পিকেটাররা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং শুরু করলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকদের নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি বিশেষ নিরাপত্তা এসকর্ট বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এসকর্টটি সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা পথরোধ করে তা আটকে দেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কয়েক ঘণ্টা আলোচনার মাধ্যমে পর্যটকদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালেও অবরোধকারীরা অনড় থাকে। এসময় সাজেক পর্যটন সড়কের ১০ নম্বর এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করায় আটকা পড়েন ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক। একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা ব্যারিকেড ভেঙে পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। আটকে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে পৌছে দেয়া হয়। ওই সময় উজোবাজার এলাকায় অবস্থানরত সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব এই তথ্য নিশ্চিত বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলি ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। এদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দাবি, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ)-এর সশস্ত্র সদস্যরা মাচলং, থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িসহ সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় অবস্থান নিয়ে শতাধিক সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া করেছে। সশস্ত্র সদস্যদের দ্রুত অপসারণ ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে দফায় দফায় অবরোধের পর দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছিল। সাজেক সড়কে নতুন করে অবরোধ শুরু হওয়ায় স্থানীয় লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত ও নিত্যপণ্য পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। পরিবহন সংকটে জুমের ফসল বাজারে নিতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন।