কাহারোলে ধানের বাম্পার ফলন দাম পেয়ে কৃষকেরা খুশি

এফএনএস (মোঃ আব্দুল্লাহ; কাহারোল, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
কাহারোলে ধানের বাম্পার ফলন দাম পেয়ে কৃষকেরা খুশি

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা, মাড়ায় চলছে পুরোদমে। বর্তমান বাজারে ধানের ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। কাহারোল উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, আমন চাষীরা আগাম জাতের ধান কাটার পর আগাম জাতের ভুট্টা ও সরিষা লাগানোর জন্য জমি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবার অন্যান্য জাতের শাক-সবজির আবাদও ভালো হয়েছে। পুরোদমে আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হওয়ায় আমন চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকেরা বলছেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার আগাম জাতের ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম ধান কাটায় খাদ্য চাহিদা পূরন বাজারে অধিক মূল্য ও খড় বিক্রিতে অধিক দামের মাধ্যমে কৃষকেরা সবদিক থেকেই লাভবান হচ্ছেন। পাশাপাশি একই জমিতে শীতকালীন সবজি ভুট্টা ও আলু আবাদের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। উপজেলার বলরামপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, আগাম জাতের ৫ বিঘা ধান আবাদ করে প্রতি বিঘায় ১৮ থেকে ২০ মণ করে ফলন পেয়েছ্ িতিনি জানান, এই জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ করবেন বলে জানান। একই গ্রামের ওমর আলী বলেন, ২ বিঘা জমিতে আগাম ধান চাষ করে ফলন ভালোই হয়েছে। প্রতি মণ বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে। কৃষকরা বলেন, আগাম জাতের ধান ঘরে তুলতে পেরে খাদ্যের চাহিদা পুরণের পাশাপাশি ধান বেশী দামে বিক্রি করতে পারছি। আগাম জাতের ধান বিক্রি করে কৃষকেরা যেমন লাভবান হবেন তেমনি সংকটকালীন সময়ে খড় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আয় করতে পারছেন। কৃষকেরা বলেন, ধানের খড়ের আঁটি গো-খাদ্য হিসাবে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতি বিঘার খড় ৬-৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও একই জমিতে আগাম জাতের ভুট্টা, আলু, কপিসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসলের রোপনের প্রস্তুতি চলছে। কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৩ শত ৪৯ হেক্টর জমিতে আমন চাষ লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ফসল আবাদের কথা চিন্তা করে কৃষকদের আগাম জাতের ধান চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আগাম জাতের ধান চাষে ভালো ফলনসহ ধামও ভালো পাচ্ছেন। একই জমিতে এসব ফসল উঠানোর পর আগাম আলু, আগাম ভুট্টা , শীতকালীন বিভিন্ন ফসল সহ বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এ বছর ব্রী-৭৫, ৮৭,৪৯, বিনাধান-১৭ ও ৭ ছাড়া আরো বিভিন্ন জাতের আগাম ধান চাষ করা হয়েছে উপজেলায়। তিনি আরো বলেন, আগাম জাতের ধান ১১০ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ জানান, ধানসহ অন্যান্য লাভজনক শষ্য ফসল উৎপাদনে প্রতিনিয়ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে কৃষকেরা ফলন ভালো পায়। রোগ-বালাই, দূর্যোগ প্রতিরোধে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে