নীলফামারীর সৈয়দপুরে এলপি গ্যাসের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। ডিলারদের গোডাউনে গ্যাস থাকলেও খুচরা দোকানে মিলছে না সিলিন্ডার। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগেও যেকোনো কোম্পানির এলপি গ্যাসের খালি সিলিন্ডার নিয়ে গেলে গ্যাস ভরে দেওয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র বদলে গেছে। পছন্দের কোম্পানির সিলিন্ডার নিয়ে গ্যাস কিনতে গিয়েও গ্রাহকদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। বিশেষ করে বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের সরবরাহ প্রায় এক মাস ধরে বাজারে নেই বললেই চলে। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে প্রকাশ্যে বসুন্ধরা এলপি গ্যাস পাওয়া না গেলেও গোপনে পছন্দের গ্রাহকদের কাছে বাড়তি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। একটি সিলিন্ডারের দাম নেওয়া হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকা। তবে কারা, কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে এসব সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৈয়দপুর বাজারে ওমেরা, লাভ, যমুনা, বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাস বিক্রি হয়। স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, বসুন্ধরা ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির গ্যাসের সিলিন্ডারও ১ হাজার ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এরপরও অনেক দোকানে গেলে বিক্রেতারা গ্যাস নেই বলে জানিয়ে দিচ্ছেন। ফলে বাড়তি দাম দিতে রাজি হয়েও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না অনেকে।গ্রাহকদের প্রশ্ন, ডিলারদের গোডাউনে গ্যাস থাকলে খুচরা বাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে না কেন? সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দোকানে দোকানে সংকটের কারণ কী? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র বাজারে সরবরাহ ও বিক্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যবসায়ীরা বলেন,সংকটের কথা। আবার খালি সিলিন্ডার নিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নিতে চাইলে তারা দিচ্ছেন না। বলেন গ্যাসসহ সিলিন্ডার নিতে হবে আর এজন্য বাড়তি দাম দিতে হবে ৪ হাজার টাকা। এদিকে, সৈয়দপুর শহরে বিভিন্ন এলপি গ্যাস কোম্পানির ডিলার ও পরিবেশক থাকলেও তাদের গোডাউনে কী পরিমাণ গ্যাস মজুত রয়েছে, নিয়মিত সরবরাহ হচ্ছে কি না এবং খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে কি না এসব বিষয়ে কার্যকর সরকারি তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।বাজারে গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামে বিক্রির অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রাহকরা। তারা ডিলারদের মজুত যাচাই, সরবরাহব্যবস্থা তদারকি, বিক্রয়মূল্য পরীক্ষা এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এলপি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে গ্যাসপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।