বগুড়ায় আলোচিত পিন্টু হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

এফএনএস ( মো: রাজিবুল ইসলাম রক্তিম; বগুড়া) : | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:১১ পিএম
বগুড়ায় আলোচিত পিন্টু হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করা লোটো শোরুমের ম্যানেজার পিন্টু আকন্দ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. সিয়াম হোসেন ওরফে সাহসকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ দুলালপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-১২-এর বগুড়া ক্যাম্পের (সিপিএসসি) একটি দল এসআরবি-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের (সিপিসি-৩) সহায়তায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেপ্তার সিয়াম হোসেন বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার জিনুইর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বগুড়ার দুপচাঁচিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এসআরবি দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, পিন্টু আকন্দ (৩৮) দুপচাঁচিয়া উপজেলার সিও অফিস মোড়সংলগ্ন খন্দকার মার্কেটে তৌফিক এলাহী সুজনের মালিকানাধীন লোটো শোরুমের ম্যানেজার হিসেবে প্রায় তিন বছর ধরে কাজ করছিলেন। গত বছরের (২২ ডিসেম্বর) রাতে শোরুম বন্ধ করার প্রস্তুতিকালে তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরদিন এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের (২২ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ৭ মিনিটে শোরুমের দৈনন্দিন কেনাবেচা শেষে মালামাল গুছিয়ে পরিষ্কার করছিলেন পিন্টু। এ সময় অজ্ঞাতনামা ছয় থেকে সাতজন ব্যক্তি শোরুমের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তাঁরা পিন্টুকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে শোরুমের সামনে রাখা একটি সাদা হায়েস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পিন্টুর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও অপহরণকারীরা তাঁকে নিয়ে নওগাঁ সড়কের দিকে চলে যায়। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে শোরুম ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে মাইক্রোবাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-৩২৬৮ বলে শনাক্ত করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের কোমরভোগ থেকে কোমরপুরগামী পাকা সড়কের পাশে একটি পুকুরের উত্তর দিকে পিন্টুকে ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, মরদেহের নাক-মুখে সাদা স্কচটেপ লাগানো ছিল এবং তাঁর নাক দিয়ে সামান্য রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় পিন্টুর স্ত্রী বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় (২৩ ডিসেম্বর) ২০২৫ তারিখে মামলা করেন মামলাটির নম্বর ১৪। এতে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৬৪, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এসআরবি জানায়, ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট আসামিরা পলাতক ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে এসআরবি-১২-এর বগুড়া ক্যাম্প তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার দক্ষিণ দুলালপাড়া এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সারোয়ারের ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পিন্টু আকন্দ হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি সিয়াম হোসেন ওরফে সাহসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে