রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে আগাম মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলার আড়ানী গোচর-রেলস্টেশন সড়কের হামিদকুড়া রাস্তার ধারে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে এক গাছিকে।
জানা গেছে, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। দুই হাজার খেজুরের বাগান রয়েছে। সড়ক পথ, রেল লাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ। এই খেজুর গাছের ডাল পরিস্কার করে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাছিরা।
একজন গাছি প্রতিদিন ৫০-৫৫টি খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করতে পারে। এ রকম ছোট-বড় প্রায় এক হাজার গাছি প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মৌসুমী ভিত্তিক এক হাজার পরিবার খেজুর গাছের উপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে একটি গাছ থেকে ২০-২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোন ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোন খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোন যত্ন ছাড়াই বড় হয়ে ওঠে। শুধুমাত্র মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিস্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। রস, গুড়, পাটারি ছাড়াও খেজুর গাছের পাতা দিয়ে মাদুর তৈরি ও জ্বালনি হিসেবে ব্যবহার হয়। পরিকল্পিত ভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটারীর চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রপ্তানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।
বাঘায় পদ্মার চকরাজাপুর চরের গাছি আবুল হোসেন বলেন, চর এলাকায় কোন খেজুর গাছ নেই। শীত মৌসুমে আমরা আড়ানী, বাঘা, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, পাকুড়িয়, বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসে তিন থেকে চার মাসের জন্য খেজুর গাছ ২০০-৩০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে রস সংগ্রহ করি। এগুলো গুড় তৈরি করে হাট বাজারে বিক্রি করি। এবার ১২০টি গাছ চুক্তি নিয়েছি। এ গাছগুলো দুইজনে রস সংগ্রহ করব। সংসারে ছয় সদস্যের পরিবার। এর উপর তিন থেকে চার মাস ভাল ভাবে চলবে। অন্য সময়ে অন্যের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিসকা চালিয়ে সংসার চালায়। আর ক‘দিন বাদেই সংগ্রহ করা হবে খেজুর রস। বাঘা উপজেলা উপসহকারি কর্মকর্তা নেয়াজ আহমেদ বলেন, শুধু সরকারি ভাবেই না, কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানো জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরাও নিজ নিজ পতিত জমিতে গাছ রোপন করলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।