দৌলতপুরে পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ২৫

এফএনএস (মোঃ সাইফুল ইসলাম শাহিন; দৌলতপুর, কুষ্টিয়া) : | প্রকাশ: ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
দৌলতপুরে পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে আটক ২৫

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা, বালুমহাল দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অপরাধ দমনে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোররাত থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার ২৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে জেলা পুলিশের প্রায় ২০০ সদস্য অংশ নেন। তবে অভিযান চলাকালে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পদ্মা নদীর বুকে জেগে ওঠা দুর্গম চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী তৎপরতা, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের অভিযোগ রয়েছে। নদীবেষ্টিত এসব চরাঞ্চলের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আনতেই এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোররাত থেকে দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন পদ্মার বিভিন্ন দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান শুরু হয়। অভিযানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান। অভিযান শেষে বিভিন্ন মামলার ২৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিভিন্ন মামলার আসামি ও আদালতের পরোয়ানাভুক্ত বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তবে অভিযানে কোনো অস্ত্র, মাদক বা গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে জমি, বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। এসব বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে গোলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার কথাও জানা যায়।

এ ছাড়া এসব এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান এবং কৃষিজমির ফসল লুটের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতা

দুর্গম চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের জন্য বরাবরই চ্যালেঞ্জিং। নদী, বিচ্ছিন্ন জনপদ এবং দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনা করতে বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এবারের অভিযানকে অপরাধ দমনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে শুধু অভিযান পরিচালনা ও আসামি গ্রেপ্তারই নয়, চরাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অপরাধের উৎস চিহ্নিত করা, বালুমহাল নিয়ে বিরোধ নিরসন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

গ্রেপ্তারদের বিষয়ে চলছে যাচাই-বাছাই

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে সন্ত্রাসী তৎপরতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে পুলিশের এ অভিযান কতটা কার্যকর হয়, তা এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে চরাঞ্চলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে