“সুস্থ পা, সচল জীবন- পায়ের যত্নে পোডিয়াট্রি”এই শ্লোগানকে সামনে রেখে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) ৮ অক্টোবর পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক পোডিয়াট্রি দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটির উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে পায়ের রোগ প্রতিরোধ, ডায়াবেটিক ফুটের জটিলতা মোকাবিলা এবং অঙ্গহানি প্রতিরোধে পোডিয়াট্রিক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী।
বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক শেখ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বারডেমের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাসির উদ্দীন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার অধ্যাপক ডা. অঞ্জন দেব, অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠান, সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ডা. মোর্শেদ উদ্দীন আকন্দ প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে পোডিয়াট্রি’র ভূমিকা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক এস এম জি সাকলায়েন ও প্রখ্যাত ভাস্কুলার সার্জন অধ্যাপক জিএম মকবুল হোসেন। মূল প্রবন্ধে বক্তারা উল্লেখ করেন, মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরা, কর্মক্ষমতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য পায়ের সুস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ পায়ের বিভিন্ন সমস্যা অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে অবহেলিত থাকে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ের সামান্য ক্ষতও সময়মতো চিকিৎসা না হলে গুরুতর সংক্রমণ, আলসার এমনকি অঙ্গহানির কারণ হতে পারে। পায়ের ছোট সমস্যাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
তাঁরা বলেন, পোডিয়াট্রি পায়ের রোগ ও জটিলতার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করে। ডায়াবেটিক ফুটের ক্ষেত্রে নিয়মিত পা পরীক্ষা, স্নায়ু ও রক্তসঞ্চালন মূল্যায়ন, ঝুঁকি নির্ণয়, ক্ষতের যথাযথ পরিচর্যা, চাপ কমানোর ব্যবস্থা এবং উপযুক্ত জুতা ব্যবহারের পরামর্শ রোগীর পা সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা আরও বলেন, ডায়াবেটিস রোগীর পা রক্ষায় শুধু রোগী ও চিকিৎসকের সচেতনতা যথেষ্ট নয়; পোডিয়াট্রিস্ট, ডায়াবেটোলজিস্ট, সার্জন, ভাসকুলার বিশেষজ্ঞ, নার্স, ফিজিওথেরাপিস্টসহ বিভিন্ন বিভাগের সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াবেটিক ফুটের সমস্যাও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা পায়ের ক্ষত, অসাড়তা, ফোসকা বা জুতার চাপকে গুরুত্ব দেন না। ফলে চিকিৎসা নিতে দেরি হয় এবং জটিলতা বাড়তে থাকে। তাঁরা জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত পা পরীক্ষা করা, খালি পায়ে না হাঁটা, পায়ের ত্বক ও নখের যত্ন নেওয়া, সঠিক মাপের জুতা ব্যবহার করা এবং পায়ে কোনো ক্ষত বা পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আরও বলেন, অ্যাম্পুটেশন প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং সমস্যা গুরুতর হওয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে পোডিয়াট্রিক সেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ পোডিয়াট্রি সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক শেখ নুরুল আলম বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে পায়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক পোডিয়াট্রিক চিকিৎসা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ডায়াবেটিক ফুট ব্যবস্থাপনায় বহুবিভাগীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সোসাইটি কাজ করে যাবে।