হাসি-খেলার বয়সে কিডনি রোগে আক্রান্ত ৩ বছরের সাফিয়া, চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার

এফএনএস (মল্লিক খলিলুর রহমান; অভয়নগর, যশোর) : | প্রকাশ: ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
হাসি-খেলার বয়সে কিডনি রোগে আক্রান্ত ৩ বছরের সাফিয়া, চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার

বয়স মাত্র তিন বছর। যে বয়সে হাসি-খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই দুরারোগ্য কিডনি রোগে আক্রান্ত সানজিদা ইসলাম সাফিয়া। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দুই কিডনির ছাঁকনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে গত এক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটছেন বাবা-মা। জমিজমা বিক্রি, স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বন্ধক বা বিক্রি এবং ধারদেনা করে এ পর্যন্ত ছয় লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তাঁরা। তবু থামেনি সাফিয়ার চিকিৎসা। এখন চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও প্রায় পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সানজিদা ইসলাম সাফিয়া যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর শহিদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের সামান্য আয়ে কোনো রকমে চলত সংসার। মেয়ের অসুস্থতা সেই পরিবারকে এখন চরম আর্থিক সংকটের মুখে পরেছে।

সাফিয়ার বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় এক বছর ধরে মেয়ের চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটেছেন তাঁরা। এখনো মেয়েকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে পারেননি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সাফিয়ার সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। সম্পূর্ন সুস্থতার জন্য অন্তত ১৭ বছর ধরে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, অর্থের অভাবে মেয়ের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অসুস্থ মেয়েকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার স্বপ্ন দেখেন শহিদুল ও তাঁর পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণে এখন বড় বাধা অর্থসংকট। সহায়-সম্বল হারিয়ে অসহায় পরিবারটি তাকিয়ে আছে সমাজের সার্মথ্যবান মানুষের দিকে। সাফিয়ার চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রবাসীদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের সামান্য সহযোগিতাও শিশুটির সুচিকিৎসা চালিয়ে সুস্থ্য জীবনে ফিরে আসার পথ খুলে যেতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে