কুড়িগ্রামের

রৌমারীতে স্কুল ঘেঁষে ইট ভাটা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
রৌমারীতে স্কুল ঘেঁষে ইট ভাটা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ইট ভাটা। এসব ইটভাটা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া আর উড়ে আসা ধুলাবালিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল শিক্ষার্থীসহ আশপাশের বাসিন্দারা। পাশাপাশি ইটভাটার কারণে ফসলি জমির উর্বরতা ও উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। সরকারি বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির এত কাছে এসব ইটভাটা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই সংশ্লিষ্টদের কাছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনে বিধিনিষেধ থাকলেও সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গড়ে উঠেছে এসব ইটভাটা।

স্কুল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুলের সীমানার খুব কাছেই গড়ে তোলা হয়েছে ইট ভাটাটি। এই ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া আর উড়ে আসা ধুলাবালি বিদ্যালয় ভবনে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা অস্বস্থিকর পরিবেশের মধ্যে ক্লাস করতে বাধ্য হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসতে চায় না এবং প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাত-আট বছর ধরে এই ভাটার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নির্বিঘ্নে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইট পোড়ানোর। তৎকালীন আ'লীগ সরকারের প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরে কর্তব্যরত সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে রৌমারীর চাক্তাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ডিজিএল ইট ভাটা স্থাপন করা হয় ইটভাটাটি। ভাটা চালু হওয়ার পর ঘরবাড়িতে ধুলা-বালির স্তুপ পড়ে যায়। গাছের ফল-ফলাদিও কমে গেছে। নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির উর্বরতা শক্তি। হ্রাস পাচ্ছে জমির উৎপাদন ক্ষমতা। স্থানীয়দের দাবি, রৌমারীর অধিকাংশ ইটভাটাই এসব বিধিনিষেধের আওতাভুক্ত দূরত্বের মধ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চাক্তাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। এছাড়াও মেসার্স ডিজিএল ব্রিকস'র মালিক সাইফুর রহমান বাবলু সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, মেসার্স ডিজিএল ব্রিকস নামের এই ভাটার কাগজ নেই। আমরা গতবছর জরিমানা করেছি। ইট ভাটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বসতবাড়ির মাঝে হওয়ায় আমরা কোনো কাগজ দেইনি। রৌমারীতে কাগজপত্র ছাড়া ছয়টি ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হলে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে