শত কষ্টের মাঝেও ক্লান্তিহীন, সংবাদপত্র হাতে ছুটছেন শিক্ষাগুরু সোহরাব

এফএনএস (মোঃ একরামুল হক মুন্সী; চিতলমারী, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:২৯ পিএম
শত কষ্টের মাঝেও ক্লান্তিহীন, সংবাদপত্র হাতে ছুটছেন শিক্ষাগুরু সোহরাব

বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। এখন আর বিছানা থেকে উঠে আসতে পারেন না ঠিকমতো। রোগ- শোক বাসা বেধেছে শরীরে কিন্তু ঘরে থাকতে মন সায় দেয়না। সকাল হলেই বেরিয়ে পড়েন বাইরে। লোকের কাছে খবরপত্র বিলি করে বেড়ান ঘুরে ঘুরে। পাশাপাশি সামাজিক,রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে রয়েছে অসামন্য অবদান তাঁর। আর এমনই একজন গুণী ব্যক্তি হলেন, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার হিজলা গ্রামের মৃত ফজজুল হক কাজীর ছেলে সোহরাব হোসেন কাজী(৮৮)। 

সোহরাব হোসেনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি ১৯৬২ সালে নাজিপুরের মালিখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। নওয়াপাড়া থেকে এইসএসসি পরবর্তীতে খুলনা দৌলতপুর কলেজ থেকে ডিগ্রী ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ পাশ করেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে তিনি চিতলমারী উপজেলার বোয়ালিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। কর্মময় জীবনে তিনি হিজলা, চরবড়বাড়িয়া, কালশিরা ও চারুপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাকতা করেন। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট (সিপিবি) পার্টিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য। এছাড়া বাগেরহাট জেলা কমিনিস্ট পার্টির প্রথম সভাপতি হিসাবে মনোনীত হন। একদিকে যেমন সুষ্ঠধারার রাজনীতি ও অবহেলিত জনপদে শিক্ষার আলো ছড়াতে আলোকবর্তিকা হয়ে কাজ করেছেন। পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রয়েছে তাঁর। এখনো অসুস্থ শরীরে পার্টির হাল ধরে রেখেছেন তিনি। কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র হিসাবে সাপ্তাহিক একতা পত্রিকা লোকের হাতে পৌঁছে দেন নিয়মিত। জীবনে রোজগারের অর্থ ব্যয় করেছেন সমাজের নানা কাজে। এখন জীবনের অন্তিম সময়ে আর্থিক অনাটন থাকা সত্বেও থেমে নেই পথচলা। একজন দিকপাল হিসাবে শিক্ষাগুরু সোহরাব হোসেনের কর্মকাণ্ড অনেককে উৎসাহিত করছে। পাশাপাশি এই বয়সে এসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করার বিষয়টিও অনেককে ভাবিয়ে তুলেছে। 

চিতলমারী উপজেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান জানান, সোহরাব হোসেন স্যার একজন গুণী মানুষ। সমাজে নানা দিকে তার অনেক অবদান রয়েছে। নৈতিক আদর্শ নিয়ে তিনি রাজনীতি করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক ছিলেন তিনি। একদিকে মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে কাজ করেছেন অন্যদিকে রাজনীতির আদর্শিক দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তিনি। তিনি এখন অনেকের কাছে অনুকরণীয় বলে অভিমত দেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে