বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরে উপজেলা প্রশাসনের একদম সামনেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। উপজেলা গেটের পূর্বপাশে রামচন্দ্রপুরপাড়া এলাকায় সুইপার কলোনিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই মাদকের আখড়াটি এখন স্থানীয় জনজীবন ও ধর্মীয় পরিবেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে এই মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন সুইপার কলোনির মৃত লালজী বাঁশফোড়ের ছেলে হৃদয় বাঁশফোঁড়, মাসুমের ছেলে শাওন এবং তাঁর সহযোগীরা। আগে এখানে প্রধানত বাংলা মদের ব্যবসা চললেও বর্তমানে অহরহ গাঁজাসহ বিভিন্ন মরণঘাতী মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। এই মাদকের স্পটটি উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ জামে মসজিদের ঠিক পাশেই অবস্থিত। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কাজে আসা মুসল্লিদের এখানে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের বিশৃঙ্খলা ও অশালীন আচরণের মুখোমুখি হতে হয়।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "উপজেলা প্রশাসনের একদম কাছেই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা প্রকাশ্য মাদক লেনদেন চলছে। মাদক নিয়ে প্রায়ই এখানে বিক্রেতাদের মধ্যে মারামারি ও গণ্ডগোল হয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসানুল মারুফ শিমুল জানান, "প্রশাসনের সামনেই এমন অবৈধ কাজ চললেও কোনো প্রতিকার নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানিয়েছি, কিন্তু রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকার তরুণরা সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকছে।" আরেক স্থানীয় বাসিন্দা তৌহিদুজ্জামান পলাশ বলেন, "সুইপার কলোনির এই মাদক ব্যবসার কারণে পুরো এলাকার পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন আসর চললে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?"
এসব অভিযোগের বিষয়ে হৃদয় বাশঁফোঁড় বলেন, "আমাদের কলোনিতে প্রায় ১৬ টি বাড়ি আছে। তাদের অনেকেই মাদক বিক্রির সাথে জড়িত। তবে আমি জাতীগতভাবে দেশীয় মদ খাই এবং বিক্রি করি। এছাড়া অন্য কোনো মাদকের সাথে সম্পৃক্ত নই। এ বিষয়ে শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, ওই কলোনির বাসিন্দারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হওয়ায় নিজস্ব ভাবে তৈরি মদ তারা পান করে। অনেকের দেশি মদের লাইসেন্স আছে। তারা নিজ সম্প্রদায়ের বাইরে মদ কেনাবেচা করে কিনা পুলিশের কাছে তথ্য নাই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু জানান, ওই এলাকায় মাদক বিক্রির কোন তথ্য তার কাছে নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।