অযত্ন ও অবহেলায় শত বছরের প্রাচীণ বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চরহোগলা এলাকার ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়িটি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। স্থানীয়ভাবে চরহোগলা চৌধুরী বাড়ি বা কালামিয়া জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত এ স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কিংবা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পরেছে। দ্রুত সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসি। যেকারণে প্রাচীণ এ জমিদার বাড়িটি সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, একসময় চরহোগলা জমিদার বাড়িটি ছিল ওই এলাকার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। বিশাল চত্বর, মূল আবাসিক ভবন, প্রাচীন পারিবারিক কবরস্থান ও সুবিশাল ঈদগাহ মাঠ এ স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। স্থাপত্যশৈলী ও নকশায় ব্রিটিশ-ঔপনিবেশিক রীতি এবং তৎকালীন মুসলিম জমিদারি সংস্কৃতির সংমিশ্রণ রয়েছে এ বাড়িতে। তবে দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা ও চুন-সুরকি খসে পরতে শুরু করেছে। বর্ষায় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় ভবনের ভেতরের অংশ বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এছাড়া বাড়ির চারিপাশ জঙ্গল ও লতাপাতায় ঢেকে যাওয়ায় স্থাপনাটির সৌন্দর্য অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় ভবনের বিভিন্ন অংশ বেদখল ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আবুল কাসেম বলেন, চরহোগলা জমিদার বাড়িটি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি মেহেন্দীগঞ্জ তথা বরিশাল অঞ্চলের জমিদারি প্রথা, সামাজিক পরিবর্তন ও স্থানীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। কলেজ ছাত্র জুনায়েদ আহম্মেদ বলেন, যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে স্থাপনাটি পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া এ বাড়ির কাছেই উলানিয়া জমিদার বাড়ি থাকায় দুটি ঐতিহাসিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে একটি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রাচীন স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক উপকরণ নিয়ে গবেষণার জন্যও বাড়িটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঐতিহাসিক এ স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনটির অবস্থা যাচাই করে জরুরি সংস্কার ও সংরক্ষণকাজ শুরু করা প্রয়োজন। একইসাথে স্থাপনার মূল নকশা ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে সংস্কার, সীমানা নির্ধারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার। এ ব্যাপারে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করা হবে।