অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন

এফএনএস (বরিশাল প্রতিবেদক) : | প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম
অভাবের সংসারে অসমাপ্ত ঘর, রেহানার পাশে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন

অভাব-অনটনের সংসার। স্বামী দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তা। এর মধ্যে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে সামান্য জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন রেহানা বেগম। অর্থের অভাবে সেই ঘরের নির্মাণকাজও থেমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের গজালিয়া দক্ষিণ পাংশা গ্রামের মো. শাহজাহান খানের স্ত্রী রেহানা বেগম। তাঁদের ১৭ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১২ বছর বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে কোরআনের হাফেজ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান খান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তাঁর চিকিৎসা, ওষুধপত্র ও সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা করতে নিজেদের সামান্য জমিতে টিনশেড ঘর নির্মাণ শুরু করেন রেহানা বেগম। কিন্তু স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে গিয়ে ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ করার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। ফলে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকে ঘরটি।

পরে রেহানা বেগম তাঁর পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জানান হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহকে। বিষয়টি জানার পর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঘরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ বলেন, রেহানা বেগমের পরিবারের অসহায়ত্বের কথা জানার পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। তাঁদের মাথা গোঁজার একটি নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অসমাপ্ত ঘরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাবুগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার অসচ্ছল, অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় হারুন মোল্লা ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সময় সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। রেহানা বেগমের পরিবারের মতো সংকটে থাকা মানুষের জন্য এমন উদ্যোগকে তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। স্বামীর অসুস্থতা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের মধ্যে একটি নিরাপদ ঘরের প্রত্যাশায় ছিলেন রেহানা বেগম। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। এখন ঘরটির নির্মাণকাজ শেষ হলে পরিবারটি অন্তত নিরাপদে মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী আশ্রয় পাবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে