বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা মহাকারুনিক গৌতম বুদ্ধ সমস্ত হিংসা বিদ্বেষ, লোভ লালসা পরিহার করে আত্মমুক্তি, সমাজ, দেশ,জাতির কল্যান, পরহিত সুখের জন্য বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন প্রথা তিনি জীবতকালে প্রচলন করেন। আত্মহিত ও পরহিতের জন্য এই বিদর্শন ভাবনা একটি উত্তম পন্থা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বৌদ্ধ সমাজ তথা মানব সমাজ সঠিক নিয়ম অনুশরন করে ভাবনা অনুশীলন করতে পারলে নিজেকে একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে। এতে ইহকাল ও পরকালের শান্তির পথ সুগম হবে। বিদর্শন ভাবনা অনুশীলন নিজকে জানার একটি আধ্যত্মিক কৌশল। এই কৌশল রপ্ত করতে পারলে মনের সমস্ত কালীমা দূরীভূত হবে। নিজে আহংকারমুক্ত হয়ে জগতের সকল প্রানীর কল্যান চেতনা মনের মধ্যে আর্ভিভাব হবে। ভাবনা অনুশীলনের মাধ্যমে বুদ্ধ প্রর্বতিত পঞ্চশীল ও অস্টশীলের (পঞ্চ ও অস্ট পালনীয় নীতি) বিষয়ে সঠিক নিয়ম শিক্ষা প্রদান করা হয়ে থাকে। ফলে ভাবনা অনুশীলনকারীরা সমস্ত অকুশল থেকে নিজেকে মুক্ত রাখে। এতে করে নিজে যেমন মানুষসহ প্রাণীর কোন অকল্যান ও ক্ষতিকর কাজ করতে পারে না। ক্ষতির বিষয় মন থেকে বিদূরিত করতে পারলে পরিবার ও সমাজে কোন অশান্তি হবে না। ফলে মানুষের মধ্যে হৃদ্যতার বন্ধন সৃষ্টি হবে। আর নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার বন্ধন সৃষ্টি করাই বুদ্ধের মুল শিক্ষা। বুদ্ধের এই শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহারে আগামী ১৮ জুলাই থেকে দশ দিনব্যাপী বিদর্শন ভাবনা কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। ভাবনা কোর্সের সমাপনী দিনে, ২৭ জুলাই (রবিবার) বাংলাদেশের বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ সংগঠন সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক নিজ কর্মের কারনে বিরল সন্মাননা এশিয়া শান্তি পদকে ভূষিত প্রয়াত ভদন্ত শান্তপদ মহাথেরো এর স্মরণ সভা,অস্টপরিস্কারসহ সংঘদান অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ইতিমধ্যে মির্জাপুর গৌতমাশ্রম বিহার পরিচালনা কমিটি যাবতীয় প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিহার পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে সাংবাদিক কেশব কুমার বড়ুয়া ও লায়ন অনুপম বড়ুয়া।