ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ময়না আক্তার (২৪) নামের এক গৃহবধুর মৃত্যুকে ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব কুট্রাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ময়নার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বলছেন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু নিহতের পিতা ও স্বজনদের দাবী ময়নাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আর পুলিশ বলছেন, বিষয়টি সন্দেহজনক। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার দিনই নিহতের স্বামী দুই শিশু সন্তানকে ১০ লাখ টাকার ডিপোজিট ও ৫ শতক জায়গা দিয়ে বিষয়টি নিস্পত্তির কথাও চাউর হচ্ছে।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ বছর আগে সরাইলের শাহজাদাপুর গ্রামের উছাবাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে মোস্তাকিম আহমেদ মনার সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয় বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরার আলাদাউদপুর গ্রামের নিয়াজ খন্দকারের মেয়ে ময়না আক্তারের। তারা পুর্ব কুট্রাপাড়া আওয়াল মিয়ার বাড়িতে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাদের রয়েছে মাহিন (১৬ মাস) ও মাইশা (৩.৫) নামের দুটি শিশু সন্তান।। অন্যান্য দিনের মত গত শুক্রবার রাতেও স্বামী স্ত্রী সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর বেলা হঠাৎ করে একটি বিকট শব্দ শুনতে পান মোস্তাকিম। ৫টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে দেখেন তার স্ত্রী নেই। খোঁজ করে ভেতর থেকে লাগানো আরেকটি কক্ষে ময়নার শব্দ পান। অনেক চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারেননি। পরে আত্মীয় স্বজন ও আশপাশের লোকজন নিয়ে দরজা খুলে দেখেন ময়নার লাশ ফ্লোরে পড়ে আছে। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ময়নার স্বামী মোস্তাকিম আহম্মদ বলেন, ময়না মানসিক ভারসাম্যহীন। আলগা দোষ আছে। প্রায়ই জ্বীনে আচর করত। নিজে নিজে চিল্লাপাল্লা করত। ময়নাকে নিয়ে শুক্রবারে ছয়বাড়িয়া এলাকায় ঘুরাফেরা করে আসছি। রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙ্গে দেখি ময়না পাশে নেই। পরে আরেক কক্ষে ময়নার লাশ পাই। কখনো ভাবিনি ময়না গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্মা করবে। তবে ময়নার পরিবার ও স্বজনদের দাবী তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, গৃহবধু ময়নার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। আপাতত সন্দেহ হচ্ছে। তাই ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি।