ভাদ্রের শেষ প্রান্তে এসে কুড়িগ্রামে প্রকৃতিতে মিলছে শীতের আগমনী বার্তা। কাকডাকা ভোরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আবহ আর ঘাস-লতা ও আমন ধানের পাতায় জমে থাকা শিশির জানান দিচ্ছে—শীত যেন আগেভাগেই কড়া নাড়ছে।
মঙ্গলবার ভোরে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের বিস্তীর্ণ সবুজ খেতের প্রতিটি পাতায় জমে আছে শিশিরবিন্দু। সূর্যের আলো ফুটে ওঠার আগমুহূর্তে শিশিরে ভেজা ধানগাছগুলোকে দূর থেকে মনে হচ্ছিল রুপালি চাদরে মোড়ানো। সকালের কোমল রোদে শিশিরবিন্দু ঝলমল করে উঠলে গ্রামীণ প্রকৃতিতে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
কাকডাকা ভোরে মাঠে কাজে বের হওয়া কৃষকদেরও গায়ে দেখা যায় হালকা গরম পোশাক। কেউ কেউ মাথায় গামছা বা চাদর জড়িয়ে কাজে বের হচ্ছেন। ভোরের ঠান্ডা বাতাস আর শিশিরভেজা পথ পেরিয়ে কৃষকেরা ছুটছেন আমন ও সবজি ক্ষেতে।
রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার পাঠক ডাক্তার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সোলায়মান আলী (৬৫) জানান, ভাদ্র মাস শেষ হতে না হতেই ভোরের দিকে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। দিনের বেলা গরম থাকলেও সকাল ও সন্ধ্যার আবহাওয়ায় শীতের ছোঁয়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে খোলা মাঠ ও নদীসংলগ্ন এলাকায় ভোরের ঠান্ডা তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে।
রাজারহাটের গ্রামীণ জনপদে এখন আমন ধানের সবুজ সমারোহ। তার সঙ্গে শিশিরভেজা ভোরের মৃদু শীত প্রকৃতিতে যোগ করেছে নতুন সৌন্দর্য। সবুজ ধানক্ষেতের ওপর জমে থাকা অসংখ্য শিশিরবিন্দু যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা রুপালি অলংকার।
ভাদ্রের শেষেই প্রকৃতির এমন রূপ দেখে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ‘শীত এবার আগেভাগেই চলে আসছে। তবে প্রকৃতির এই মায়াবী রূপে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ ভোরের পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। শিশিরভেজা আমনক্ষেত আর মৃদু শীতল বাতাসে রাজারহাটের জনপদে এখন যেন শীতের আগমনী সুর বাজছে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, ভাদ্রের শেষ দিকে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসায় ভোরের দিকে হালকা শীতের অনুভূতি হচ্ছে। এ সময় বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে ঘাস, গাছপালা ও আমন ধানের পাতায় শিশির জমতে দেখা যায়। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় এখনই তীব্র শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে রাত ও ভোরের তাপমাত্রা আরও কমতে থাকলে শীতের অনুভূতি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।