ফুটবল, অহংবোধ ও দেম্বেলে নিয়ে মুখ খুললেন এমবাপ্পে

এফএনএস স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:১৯ পিএম
ফুটবল, অহংবোধ ও দেম্বেলে নিয়ে মুখ খুললেন এমবাপ্পে
ছবি: সংগ্রহীত

ফুটবলে ব্যক্তিস্বার্থ বা অহংবোধ শুধু তারকাদের মধ্যে থাকে না, বরং দলের প্রায় প্রতিটি খেলোয়াড়ের মধ্যেই কোনো না কোনোভাবে তা থাকে বলে মন্তব্য করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে থাকার সময় এবং রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর স্বার্থপরতার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছে, ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল'একিপের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সেটির জবাব দিয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা।

নিজেকে সবসময় ব্যক্তিগত সাফল্যের দিকে বেশি ঝোঁকা খেলোয়াড় হিসেবে দেখার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এমবাপ্পে বলেন, ফুটবলের সব খেলোয়াড়ই কোনো না কোনোভাবে স্বার্থপর। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সবার মধ্যেই এই প্রবণতা রয়েছে।

এমবাপ্পের ভাষায়, “সব খেলোয়াড়ই স্বার্থপর। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে মূল স্ট্রাইকার পর্যন্ত। এটা অসম্মানজনক কিছু নয়। কখনো কখনো আমরা কিছু নির্দিষ্ট পজিশনের ব্যাপারে খুব একটা ভাবি না।”

ফরাসি তারকার মতে, একজন স্ট্রাইকার স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের আলো নিজের দিকে টানেন। কখনো সেই প্রশংসা তার প্রাপ্য হয়, আবার কখনো তা নাও হতে পারে। তবে ফুটবলে গোল করাই সবচেয়ে কঠিন এবং মূল্যবান কাজগুলোর একটি বলে মনে করেন তিনি।

এমবাপ্পে বলেন, “এমন ম্যাচে আমি গোল করেছি, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা আমার চেয়ে ভালো খেলেছে। কিন্তু ফুটবলে গোল করাটা সবচেয়ে কঠিন ও মূল্যবান অংশ। তাই কখনো প্রশংসা পাওয়া স্বাভাবিক, আবার কখনো তার বিপরীতটাও মেনে নিতে হয়।”

ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা বদলায়নি

ব্যবসা, খ্যাতি কিংবা ফুটবলকে ঘিরে নানা বিতর্কের মধ্যেও খেলাটির প্রতি তার ভালোবাসা বদলায়নি বলে জানিয়েছেন এমবাপ্পে। পেশাদার ফুটবল ও এর ব্যবসায়িক দিককে আলাদা করে দেখতে শিখেছেন বলেও জানান তিনি।

“না, আমি খেলা আর ব্যবসাকে আলাদা করতে জানি। খেলাটির প্রতি ভালোবাসা কখনো হারিয়ে যাবে না। আমি এই খেলাটির প্রেমে পড়েছিলাম। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরও আমি ম্যাচ দেখব, স্টেডিয়ামে যাব,” বলেন এমবাপ্পে।

তবে ফুটবল ছাড়ার পর এই জগতের সঙ্গে তার সম্পর্ক কতটা থাকবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন তিনি। অভিজ্ঞতার সঙ্গে মানুষ অনেক কিছু আলাদাভাবে দেখতে শেখে বলেও মন্তব্য করেন ফরাসি অধিনায়ক।

তার ভাষায়, “অভিজ্ঞতার সঙ্গে আপনি বিষয়গুলো আলাদা করতে শেখেন। সবকিছুকে এক করে দেখা ভুল। খেলাটিই কোটি কোটি মানুষকে আবেগী করে তোলে। আমাদের কাজের মূল সৌন্দর্যও এখানেই।”

পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে তারকাদের অহংবোধের পার্থক্য আছে কি না, এমন প্রশ্নেরও মুখোমুখি হন এমবাপ্পে। তার মতে, তারকা থাকুক বা না থাকুক, যেকোনো ড্রেসিংরুমেই অহংবোধসম্পন্ন মানুষ থাকতে পারেন।

পিএসজিতে নিজের শেষ মৌসুমের প্রসঙ্গ টেনে এমবাপ্পে বলেন, “প্রতিটি ড্রেসিংরুমেই এই ধরনের মানুষ থাকে, এমনকি যেসব দলে কোনো তারকাও নেই। প্যারিসে আমার শেষ বছরে আমি ছাড়া আর কোনো তারকা ছিল না।”

এ সময় ওসমান দেম্বেলের প্রসঙ্গও টানেন তিনি। এমবাপ্পের মতে, পিএসজিতে তার শেষ মৌসুমের পর দেম্বেলে সত্যিকারের তারকা হয়ে ওঠেন।

এমবাপ্পে বলেন, “ওসমান দেম্বেলে পরে সত্যিকারের তারকা হয়ে উঠেছে। মানুষ সবসময় অহংবোধকে তারকাদের সঙ্গে যুক্ত করে। কিন্তু আমি এমন খেলোয়াড়ও দেখেছি, যাদের কাছে কেউ ছবি বা অটোগ্রাফ চায় না, অথচ তাদের অহংবোধ অনেক বেশি।”

শুধু ফুটবলারদের মধ্যেই নয়, প্রতিষ্ঠানের অফিসে কাজ করা অনেক মানুষের মধ্যেও অহংবোধ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন এমবাপ্পে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট, তারকা খেলোয়াড়দের ঘিরে অহংবোধের যে সাধারণ ধারণা তৈরি হয়েছে, তিনি সেটিকে একপাক্ষিক বলে মনে করেন।

উৎস: ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল'একিপ 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে