ওয়েস্ট হ্যামের কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত রেক্সহ্যাম

এফএনএস স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
ওয়েস্ট হ্যামের কাছে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত রেক্সহ্যাম
ছবি: সংগ্রহীত

রায়ান রেনল্ডস ও রব ম্যাকএলহেনির মালিকানায় রেক্সহ্যামের সময়টা রূপকথার মতোই এগোচ্ছিল। টানা তিন মৌসুমে তিনটি পদোন্নতির পর এবার চ্যাম্পিয়নশিপে উঠে এসে বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছিল ওয়েলশ ক্লাবটি। সেই পরীক্ষায় অবশ্য ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়েছে তারা। ওয়েস্ট হ্যামের কাছে ৬-০ গোলে হেরে হলিউড মালিকানার যুগে নিজেদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখ দেখেছে রেক্সহ্যাম।

লন্ডন স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে শুরুতে প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত লড়াইয়ে ছিল রেক্সহ্যাম। কিন্তু এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে ফিল পার্কিনসনের দল। প্রথমার্ধে জ্যারড বোয়েন ও জোয়েল পিরোর গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

বিরতির পর রেক্সহ্যামের ওপর আরও চড়াও হয় ওয়েস্ট হ্যাম। কনস্তান্তিনোস মাভরোপানোস, ভ্যালেন্তিন কাস্তেয়ানোস, মোহামাদু কানতে ও মানোর সলোমন আরও চার গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ৬-০ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট হ্যাম।

এই হার রেক্সহ্যামের জন্য একটি নেতিবাচক রেকর্ডও তৈরি করেছে। ২০২১ সালে রেনল্ডস ও ম্যাকএলহেনি ক্লাবটির মালিকানা নেওয়ার পর এটাই তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে হলিউড মালিকানার যুগে রেক্সহ্যামের সবচেয়ে বড় হার ছিল ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে স্টকপোর্ট কাউন্টির কাছে ৫-০ গোলে পরাজয়।

তিনটি টানা পদোন্নতির অসাধারণ যাত্রা পেরিয়ে এবার চ্যাম্পিয়নশিপে উঠেছে রেক্সহ্যাম। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগ থেকে গত মৌসুমে অবনমিত হওয়া ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে পার্থক্যটা ছিল স্পষ্ট। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে রেক্সহ্যামের রক্ষণ কার্যত ভেঙে পড়ে।

ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন কোচ ফিল পার্কিনসন। তিনি বলেন, “খুব কঠিন। সত্যিই খুব কঠিন একটি রাত। আমাকে নিজের দিকটাও বিশ্লেষণ করতে হবে এবং দায় নিতে হবে। আমি দেখব, কোথায় আরও ভালো করতে পারতাম।”

পার্কিনসনের মতে, প্রথম ২৫ মিনিটে রেক্সহ্যাম ম্যাচে ছিল। কিন্তু রক্ষণে দুটি ভুলের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। তিনি বলেন, “২৫ মিনিট পর্যন্ত আমরা ম্যাচে ছিলাম। এরপর দুটি মুহূর্তে আমাদের রক্ষণ যথেষ্ট ভালো ছিল না। তৃতীয় গোলটি আমাদের সত্যিই শেষ করে দিয়েছে।”

রেক্সহ্যামের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি সুযোগও এসেছিল। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় জর্জ ডবসনের শট ওয়েস্ট হ্যামের গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেন মাভরোপানোস। সেই সুযোগটি কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ওয়েস্ট হ্যাম ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

এই ম্যাচে দর্শকসংখ্যাও ছিল ঐতিহাসিক। মোট ৫৯ হাজার ৭১২ দর্শক লন্ডন স্টেডিয়ামে রেক্সহ্যামের ম্যাচ দেখতে উপস্থিত ছিলেন। এটিই ক্লাবটির ইতিহাসে কোনো ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শকের উপস্থিতি। এর আগে রেক্সহ্যামের ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা ছিল ৫৪ হাজার ৯৬, ১৯৭০ সালের জানুয়ারিতে এফএ কাপে লিভারপুলের বিপক্ষে অ্যানফিল্ডের ম্যাচে।

ওয়েস্ট হ্যামের শক্তির কথাও স্বীকার করেছেন পার্কিনসন। তার ভাষায়, “আমার একটা অংশ বাস্তবতা মেনে বলছে, তারা খুব ভালো দল। বহু মিলিয়ন পাউন্ডের আক্রমণভাগ রয়েছে তাদের, এমন একটি দল যারা প্রিমিয়ার লিগে থাকার কথা।”

রেক্সহ্যামের জন্য তাই এই হার শুধু বড় ব্যবধানে পরাজয় নয়, চ্যাম্পিয়নশিপের কঠিন বাস্তবতারও বড় একটি বার্তা। টানা তিন পদোন্নতির পর যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে ক্লাবটি, সেখানে প্রতিটি ম্যাচেই আগের চেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে পার্কিনসনদের।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে