কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের আল্লারদর্গা মিরপুর ঘাটপাড়া এলাকায় একটি মিথ্যা মামলার অভিযোগে কলেজ ছাত্রকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে আল্লারদর্গা মিরপুর ঘাটপাড়া গ্রামের অটোচালক জয়নুল আবেদীনের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মোঃ জুবায়ের হোসেন জীবন আল্লারদর্গা নুরুজ্জামান বিশ্বাস ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তার রোল নম্বর ৮, শিক্ষাবর্ষ ২০২৫-২০২৬।
নারী ও শিশু নিযর্অতন দমন আদালতে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু পিটিশন কাল্পনিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার নং ৭২/২০২৬। কাল্পনিক মিথ্যা গল্প সাাজিয়ে মেয়ের বাবা শিপন আলি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার উদ্দেশে উত্যোক্ত করা ইত্যাদি অভিযোগ করে কলেজ ছাত্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, দৌলতপুর থানার মামলা নং ৭৫/২০২৬।
ছাত্রের বাবা জয়নুল আবেদীন জানান, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ রাত ২.৩৫ সময় দৌলতপুর থানার এস.আই.লিংকন সরকারের নেত্রেত্বে বাড়িতে পুলিশ প্রবেশ করে এবং হঠাৎ আমার অসুস্থ সন্তান জীবন কলেজ ছাত্রকে গ্রেফতার করে এবং থানায় নিয়ে গিয়ে বাদীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার নামে ১ ঘন্টা ধরে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে জেল হাজতে প্রেরণ করে এস, আই, লিংকন সরকার ।
এ দিকে বাদী মেয়ের বাবা অভিযোগকারী মোঃ শিপন আলী পিতা ফেলা মন্ডল একই এলাকার হলুদবাড়িয়া ঘাটপাড়া জজ আদালতে অভিযোগ করে আসামি গণ সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, দাঙ্গাবাজ ব্যক্তি, গত ২৩/০৬/২৬ তারিখ আমার মেয়ে মামুনি আক্তার লিমা কুষ্টিয়া গার্লস কলেজের ছাত্রী, অনেকদিন যাবত আসামি জীবন আমার মেয়েকে উত্তপ্ত করতো। আসামী মোঃ জীবনের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনকে জানালে তারা কথা কর্ণপাত করেনা, যার ফলে গত ৩০.০৭.২৬ তারিখে বাদীর মেয়ে সেখান থেকে খালার বাড়ি তারাগুনিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হইলে আসামী মেয়েকে ব্যাড সাউন্ড করা,আরো অভিযোগ আমার মেয়েকে এই কলেজ ছাত্র, বিভিন্ন সময় যৌন পীড়ন করেছে।
এ বিষয়ে বাদী শিপন কলেজ ছাত্র মোঃ জীবন সহ চারজনকে আসামি করে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। বিজ্ঞ আদালত জীবন বাদে অপর ৩ আসামিদের এজাহার থেকে বাদ দিয়ে জীবনকে দোষী সাব্যস্ত করে দৌলতপুর থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
যে কারণে ছাত্র জীবনের উপর এত ক্ষোভ, এলাকাবাসী জানায় জুবায়ের হোসেন জীবন একজন কলেজ ছাত্র প্রকৃতপক্ষে সে ওই ছাত্রীর অর্থাৎ শিপনের মেয়ের মোবাইল নম্বর চাই, বয়সে তার অনেক বড়, কিছু লেখাপড়া বিষয়ে জিজ্ঞেস করার জন্য, মেয়ের আপন চাচাতো বোনের কাছ থেকে। চাচাতো বোন শিপন আলী কে জানালে তারা ৪/৫ জন মিলে কিছু বোঝে উঠার আগেই গত ২০.০৫.২৬ তারিখ জুবায়ের হোসেন জীবনকে বেধড়ক মারপিট করে তার ডান পা ভেঙে দেয়। সে চার মাস চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসলে তার বিরুদ্ধে আবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এই মামলায় তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেল হবে পাঠায়।
এলাকাবাসী এবং আত্মীয়-স্বজন আরো অভিযোগ করে ওই মেয়ের সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক ছিল না বা তাকে কোন প্রকার উত্তপ্ত বা নির্যাতনের মত কোন কাজ বা তাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ হয়নি। ২৩.০৬.২৬ তারিখ ঔদিন কলেজ ছাত্র জীবন অসুস্থতার কারণে বাড়ীতে ছিল এবং মেয়ে কুষ্টিয়া ছিল। পুলিশ তাদের মোবাইল ট্যাগ করলে অবস্থান জানাযাবে।
তা ছাড়াআল্লারদর্গা থেকে তারাগুনিয়া কোন স্থানে ওরনা ধরে টান দিয়েছে বা মূখ চেপে ধরেছে, তা অভিযোগে উল্লেখ করে নাই, সেখান কার স্থানীয় মানুষের স্বাক্ষীতেও উল্লেখ নাই, বা সেখানকার সিসি ক্যামেরার কোন ভিডিও কোন মানুষ স্বাক্ষী দেন নাই, যৌন নিপিড়ন করেছে! কেমন যৌন পীড়ন অপরাধ করেছে , তার সু-স্পষ্ট কাগজপত্র দাখিল করেনি।
অথচ তাকে এই মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে পা ভাঙ্গা অসুস্থ অবস্থায় কোন প্রকার তদন্ত না করে কেন জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে, এলাকাবাসী জানতে চাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত না করেই বাদী শিপন আলীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে টাকার বিনিময়ে তাকে গ্রেফতার করে পিটিয়ে আহত করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে ।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চলের সৃষ্টি করেছে বিনা অপরাধে কলেজ ছাত্রকে জেল হাজতে প্রেরণ, এ অন্যায়ের প্রতিবাদ উঠেছে। কলেজ ছাত্রের পিতা জয়নুল আবেদিন বিএনপির সমর্থক কর্মী একজন অটোচালক।
তিনি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাজনৈতিক ব্যাক্তি সহ বিভিন্ন জনের দ্বারে দ্বারে এই প্রার্থনা করছে তার ছেলেকে বিনা দোষে শিপন একবার পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে পরে আবার জেল হাজতে পাঠিয়েছে, এর সু-বিচার চাই। বিষয়টি প্রকৃত পক্ষে ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্ত পূর্বক ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছে এলাকার সচেতন মহল। বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।