ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় শিল্পী খাতুন(৩৫) নামের এক প্রসূতি গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বেসরকারি ক্লিনিকটি সিলগালা ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মা হারা শিশুটির জন্য দুধ,জামা-কাপড় সহ নগদ ১০ হাজার টাকা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।নিহত শিল্পী খাতুন কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগাছিয়া গ্রামের ইয়ার আলীর স্ত্রী। রোববার প্রসববেদনা উঠলে তাকে বারবাজার এলাকার নিউ মডার্ন গরীব শাহ ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়।নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিকে ভর্তির সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় হঠাৎ করেই তার মৃত্যু হয়। তবে মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হলেও অলৌকিক ভাবে নবজাতক শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার ওই অপারেশনে অ্যানেশেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডাঃ তানভিরুল ইসলামের নাম উঠে আসলে তিনি নাকি সেদিন দায়িত্ব পালন করেননি। অন্যদিকে,গাইনি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ ফাতিমা আক্তারের দাবি রোগী উচ্চ রক্তচাপজনিত কারণে শক বা তীব্র জটিলতার শিকার হয়ে ওটিতে আসার আগেই মারা গেছেন।এ ঘটনায় ক্লিনিকটির মালিক ইসলাম হোসেনের ভূমিকা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগ রয়েছে তিনি নিজেই ডাক্তার সেজে বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে আসতেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এছাড়া ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দায়িত্বরত চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে আমরা তলব করেছি।ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, মেডিকেল প্র্যাকটিস ও বেসরকারি ক্লিনিক এবং ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ক্লিনিকটিকে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড করা হয়েছে এবং সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নবজাতক শিশুটির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শিশুটির প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ১০ হাজার টাকা তার নানির হাতে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন জানান, প্রসূতির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ভাবে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।