ক্ষেতলাল বন বিভাগ অফিসের বেহাল দশা, সংস্কারের অভাব

এফএনএস (মোঃ হাসান আলী মন্ডল; ক্ষেতলাল, জয়পুর হাট) : | প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
ক্ষেতলাল বন বিভাগ অফিসের বেহাল দশা, সংস্কারের অভাব

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা সদরের বন বিভাগ অফিসটির বেহাল দশা। দীর্ঘদিন সংস্কার ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অফিসসহ কর্মকর্তাদের বাস ভবনগুলোর জরাজীর্ণ অবস্থা। জানা গেছে, উপজেলার ওই বন বিভাগের চারা উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত কোনো চারা এলাকায় সরবরাহ করতে পারে না।

ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতরে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপর ১৯৮০ সালে ওই বন বিভাগ অফিস নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মূল অফিসসহ অন্যান্য ভবন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবেশপথের মূল ফটকের সামনে আগাছায় আবৃত। ভেতরে প্রবেশ করলে দু-একটি প্রজাতির ছোট ছোট পরিত্যক্ত চারা ও আগাছা ছাড়া আর কিছুই মিলবে না। অথচ উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান দাবি করেন, বন বিভাগ বছরে প্রায় ৪০ হাজার বিভিন্ন ফলদ, বনজ ও ওষধি চারা সরকারি নির্দেশে রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, দাতব্য প্রতিষ্ঠানসহ বেড়িবাঁধের পাশে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিতরণ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্প বনায়নের জন্য যে চারার চাহিদা, তা পূরণে নিজস্ব চারা উৎপাদনের কথা থাকলেও বন কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারি থেকে স্বল্পমূল্যের নিম্নমানের চারা সংগ্রহ করে চাহিদা পূরণ দেখান।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের গৃহীত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের বিন্যাসকৃত গাছের চারার চাহিদার ১ শতাংশও পূরণ করতে পারেনি ক্ষেতলাল বন বিভাগ। কাগজে-কলমে ক্ষেতলাল উপজেলা বন বিভাগ ৪ হাজার ৫টি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ বিতরণ করার দাবি করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সরেজমিনে বন বিভাগের বেডে যে কয়টি চারা দেখা গেছে, সেগুলোর গুণগত মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার বেলাল হোসেন বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন উন্নয়নকাজে নতুন রাস্তা নির্মাণ বা খাল খনন করা হলে গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেই চারা বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এখান থেকে পাওয়া গেলে পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচত। ক্ষেতলাল উপজেলা বিএমডিএ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলসীগঙ্গা নদীর বেড়িবাঁধে ২ হাজার ফলদ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করেছি। যার সব চারাই বাইর থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখার পূর্বে যুগান্তর প্রতিনিধি ক্ষেতলাল বন কর্মকর্তা অফিসে তিন দিন গিয়েও তাঁর দেখা মেলেনি। পরে বন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান মুঠোফোনে জানান, আমি পাশের কালাই উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে আছি। ক্ষেতলাল বন বিভাগ থেকে এ বছর পাঁচ হাজার ফলদ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়েছে। এখন আরও তিন হাজার চারা বেডে রয়েছে। এ বছর আরও ৩০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে উপযোগী মাটি না পাওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি।  তিনি জানান, পরিবারসহ বসবাসের কথা থাকলেও ভবনগুলো অনুপযোগী হওয়ায় কেউ থাকতে পারছেন না। তারপরও বন বিভাগের মালী আব্দুর রাজ্জাক ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। আক্ষেপ করে তাঁরা জানান, বন কর্মকর্তাদের নিজস্ব কোনো কার্যালয় না থাকায় মালীদের ঝুপড়ি ব্যারাকে বসেই নিয়মিত অফিস করতে হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ক্ষেতলাল উপজেলার সব দপ্তর স্পর্শ করলেও বন বিভাগ সব ক্ষেত্রে বঞ্চিত। এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী বলেন, বন বিভাগের ভবনের বেহাল দশা জেনেছি। বন কর্মকর্তা এখানেসহ চারটি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে