হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ বেডের। কিন্তু নিত্য, সময় রোগী ভর্তি থাকে ৭০ থেকে ৮০ জন। ৫০ বেডের লোকবল ও বরাদ্দকৃত ঔষধ, পথ্য এবং খাবার দিয়ে সামলাতে হয় বাড়তি রোগী। ফলে বাড়তি রোগীকে অন্তবিভাগের ভিতরে ও বাইরে বারান্দায় রেখে কর্তৃপক্ষকে সেবা দিতে হচ্ছে। তাই গ্রামীন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারী সিদ্ধান্ত ১শ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা এখন সময়ের দাবী।
জানা যায়, হাটহাজারী উপজেলা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাথে লাগাও উপজেলা। তাছাড়া পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি এবং রাঙ্গামাটি জেলার প্রবেশ দ্বার। এই উপজেলার সাথে সংসদীয় আসন চট্টগ্রাম -৫ এর আওতায় সিটি করপোরেশন এক ও দুই নং দুটি ওয়ার্ড সংযুক্ত রয়েছে। রাঙ্গামাটি হাইওয়ে এবং হাটহাজারী আঞ্চলিক মহাসড়ক দুটিতে প্রায় প্রতিনয়ত কোন না কোন স্থানে দূর্ঘটনা ঘটে। ফলে দূর্ঘটনায় হতাহতদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবার জন্য হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একমাত্র ভরসা। তাছাড়া হাটহাজারী উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা দুইটি সিটি করপোরেশন ওয়ার্ডের লোকজনের চিকিৎসা সেবার জন্য এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলা সদরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থান হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নের অসুস্থ লোকজন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। বিশেষ করে গ্রমের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একমাত্র ভরসাস্থল এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সহজে সেবা পাওয়া যায় বলে ৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অন্তবিভাগে প্রতিনিয়ত ৭০ থেকে ৮০ জনরোগী ভর্তি থাকে। কর্তৃপক্ষ পক্ষ বাড়তি রোগীকে সেবা দিতে বাধ্য হয়ে অন্তবিভাগের ফ্লোরে রেখে সেবা প্রদান করেন। এতে করে ৫০ শয্যার লোকবল, ঔষধ, পথ্য ও খাবার দিয়ে সেবা কার্যক্রম চালাতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এদিকে নিরাপদ ডেলিভারিতে এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র ইতিমধ্যে অনেক এগিয়ে রয়েছে। আবার বর্হিবিভাগে প্রতিনিয়ত আটশ থেকে এক হাজার রোগী সেবা নিতে আসে। বাড়তি রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে সরকারি ভাবে বরাদ্দ ঔষধ বিতরণে সমস্যা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা, এক্সরে সেবার জন্য বরাদ্দ কৃত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অনেক সময় সংকট দেখা দিলে ও কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে তা ব্যবস্থা করার কথা সেবা নিতে আসা রোগীদের মুখে শুনা যায় প্রতিনিয়ত। এমন কি কোন রোগীর পরীক্ষা অফিস চলাকালীন সময়ের পরে বিশেষ করে রাত্রে প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষ নিজেদের উদ্যোগে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে করিয়া দেওয়ার কথা ও শুনা যায়। সম্প্রতি হাটহাজারী আঞ্চলিক সড়কের চারিয়া বোর্ড স্কুল সংলগ্ন স্থানে এক মারাত্মক দূর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ নয়জন হতাহত হওয়ার পর তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত কনসালট্যান্টগন উপস্থিত হয়ে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে কমপ্লেক্সে একটি এম্বুলেন্সসহ বাইর থেকে আরো অতিরিক্ত এম্বুলেন্স এনে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরন করার কথা সকালের জানা বিষয়। গ্রামীন জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে সরকারী সিদ্ধান্ত মোতাবেক এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অভিলম্বে ১শ শয্যায় উন্নিত করার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা এখন সময়ের দাবী পরিনত হয়েছে। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১শ শয্যায় উন্নতি করা গেলে হাটহাজারী উপজেলাসহ আশেপাশের উপজেলার লোকজনের স্বাস্থ্য সেবা সহজ হবে বলে মনে করেন সচেতনমহল।