ইজিবাইক-অটো রিকশার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পিরোজপুর শহরবাসী

এফএনএস (মোঃ রেজাউল ইসলাম শামীম; পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম
ইজিবাইক-অটো রিকশার দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পিরোজপুর শহরবাসী

ইজি বাইক ও অটো রিক্সার অদক্ষ চালক, যত্রতত্র পার্কিং এবং কম প্রশস্ত সড়কের কারনে পিরোজপুর জেলা শহরে দিন দিন বাড়ছে অটো ও ইজি বাইক চালকদের দৌরাত্ম। ফলে যারপর নাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শহরের পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী। ট্রাফিক আইন ও চালক হিসেবে ওইসব ইজি বাইক ও অটোরিকশা চালকদের করণীয় বিষয়ে ন্যূনতম কোনো জ্ঞান না থাকায়  নিয়ম কানুন না মেনে ওভার টের্কিং করা এবং কোনো রকম সিগ্ন্যাল না দিয়ে যত্রতত্র স্টপেজ দেওয়ার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। শহর জুড়ে অদক্ষ ইজিবাইক-অটো রিকশা চালকদের দৌরাত্মে শহরবাসী এখন অতিষ্ঠ।  পিরোজপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৮৫ সালে। পৌর শহরে নির্মিত  রাস্তার দুই ধারে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠে বাড়ি-ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন অফিস। পিরোজপুর শহরের পশ্চিম প্রান্তে বলেশ্বর নদীর উপর ব্রিজটি পার্শ্ববর্তী বাগেরহাট জেলাকে এবং পূর্ব প্রান্তে কচা নদীর উপর বেকুটিয়া ব্রিজটি ঝালকাঠী ও বরিশাল জেলাকে পিরোজপুরের সাথে যুক্ত করেছে। ফলে ওই তিনটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে শত শত ইজি বাইকসহ অন্যান্য গাড়ী পিরোজপুরে ঢোকে। ফলে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট এ পৌর শহরে যানবাহনের ভিড়ে প্রায়ই জনজীবন অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। 

পিরোজপুর শহরের কোথাও ইজি বাইক-অটো রিকশার জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড  না থাকায় চালকরা সরু রাস্তার দুই ধারে যেখানে খুশি সেখানে তাদের গাড়ি পার্কিং করে। ফলে শহরের রাস্তাগুলোতে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট এবং প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। রাস্তার ধারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহন পার্কিং করে রাখায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন ভোগান্তির শিকার।  ২৫ বছরাধিককাল পিরোজপুর শহরের রিকশা চালক মোঃ বাদশা মিয়া জানান, আগে শহরে ফাঁকা রাস্তায় প্যাডেলের রিকশা চালিয়ে বেশ ভালভাবেই সংসার চলতো। কিন্তু এখন ব্যাটারী চালিত রিকশা ও ইজি বাইকে শহর ভরে যাওয়ায় রাস্তাগুলোয় সব সময় জ্যাম থাকে। বলেন, প্যাসেঞ্জার নিয়ে রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সে সময় মনে হয় কোনো স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি।  পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আয়েশা রেজা নূর  বলেন, ইজি বাইক ও অটো রিকশার বেপরোয়া গতি ও যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকা এবং ফুটপাথে বিভিন্ন ধরনের দোকান থাকার কারণে কলেজে যাওয়া-আসায় বিঘ্ন ঘটে। বলেন, যানবাহন চলাচলে নিয়ম শৃঙ্খলা আনলে এবং ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পারলে এ সমস্যার সমাধান হবে। 

পিরোজপুর কালিবাড়ি সড়কের ব্যবসায়ী হাসিব আর্ট এর মালিক হাসিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, কালিবাড়ি সড়কে পথচারীদের চলাচলের কোন সুযোগ নেই এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা ইজি বাইক ও অটো রিকশা পার্কিং করে রাখার কারণে দোকানে কোন কাস্টমার ঢুকতে পারেনা। অটো চালকদের কিছু বললে তারা ব্যবসায়ীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। কখনো কখনো উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা, এমনকি হাতাহাতিও হয়।

পিরোজপুর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আঃ রাজ্জাক ফকির জানান, শহরের কোথাও স্ট্যান্ডের ব্যবস্থা না থাকায় ইজি বাইক চালকরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা করায়। ইজি বাইক এর জন্য স্ট্যান্ড এর ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছেন ওই ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি।  পিরোজপুর পৌর প্রশাসক মাহামুদুর রহমান মামুন বলেন, একেতো ছোট শহর তার উপর আবার প্রতিদিন পাশ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকে শত শত ইজি বাইক-অটো শহরে ঢোকায় বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনা। বিগত সময় শহরে ইজি বাইক-অটো স্ট্যান্ড গড়ে না ওঠায় যত্রতত্র পার্কিং করে রাখে চালকেরা। ফলে পথচারীসহ সকলকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে তিনি আমার দেশকে জানান, বিভিন্ন উপজেলা থেকে পিরোজপুরে প্রবেশের যে ৬-৭ টি পয়েন্ট রয়েছে সেসব পয়েন্টে স্ট্যান্ড এর ব্যবস্থা করে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে