লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিবি)'র নেতা সেলিম রেজাকে খুঁজে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার গ্রামের বাড়িতে দুই দফায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাটসহ তার (সেলিম রেজা) বাবাকে মারধর করে আহত করেছেন। হামলাকারীরা সেলিম রেজাকে পেলে হত্যার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৫ আগস্ট দুপুরে। শরীয়তপুরের বাসিন্দা সেলিম রেজা রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ড (ওয়ারী) শাখার এলডিবির সহ-প্রচার সম্পাদক।
সূত্রমতে, এলডিবির সক্রিয় নেতা হওয়ার সুবাধে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে সেলিম রেজা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ওইসব কর্মকান্ড থেকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে ২০১৮ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের চিহ্নিত ক্যাডাররা সেলিম রেজার ওপর হামলা চালায়। কিন্তু ভাগ্যক্রমে সে সময় তিনি (সেলিম রেজা) প্রাণে বেঁচে গেলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত ছিলো। এসব ঘটনায় তিনি (সেলিম রেজা) তৎকালীন সময়ে থানায় মামলা দায়ের করতে গেলেও পুলিশ তার মামলার অভিযোগ গ্রহণ করেননি।
সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাতারাতি ওইসব ক্যাডাররা বিএনপির কতিপয় প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় আশ্রয় গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহুর্তে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করেন।
এলডিবি নেতা সেলিম রেজার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরের শৌলপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন হাওলাদারের নেতৃত্বে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা খান, যুবলীগের সভাপতি বাবুল খান, ছাত্রলীগের সভাপতি কাউছার হোসেন, সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছালেক খানসহ তাদের ১০/১২ জন সহযোগিরা ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় তাকে (সেলিম রেজা) খুঁজতে তাদের বাড়িতে যায়। তারা সেলিম রেজাকে বাড়িতে না পেয়ে বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরসহ লুটপাট করে। এসময় হামলাকারীদের বাঁধা প্রদান করায় সেলিম রেজার বাবাকে মারধর করে আহত করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সেলিম রেজাকে পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলডিবি নেতা সেলিম রেজার এক ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সারাদেশের ন্যায় শরীয়তপুরের আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে এলাকায় নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে উল্লেখিত আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা নিজেদের বিএনপির লোক পরিচয় দিয়ে শরীয়তপুর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক জয়দুল মাতুব্বর, শৌলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন আকন, যুবদল নেতা রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সবুজ মিয়াকে সাথে নিয়ে সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট সন্ধ্যায় সেলিম রেজাকে খুঁজতে তার গ্রামের বাড়িতে যায়। এসময় তাকে (সেলিম রেজা) না পেয়ে ফের হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলাকারীরা সেলিম রেজাকে পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে বীরদর্পে স্থান ত্যাগ করে।
এলডিবি নেতা সেলিম রেজার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট ভারতে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে এসে ঘোষণা করেন সে আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে আসবেন। তার এ ঘোষণার পর বর্তমানে বিএনপির হয়ে কাজ করা কার্যক্রম নিষিদ্ধ উল্লেখিত আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা সেলিম রেজাদের বাড়িতে এসে তার বাবাকে বিভিন্নধরনের ভয়ভীতিসহ সেলিম রেজাকে খুঁজে পেলে হত্যার হুমকি প্রদর্শন করে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উল্লেখিত ক্যাডারদের অব্যাহত হুমকির মুখে এলডিবি নেতা সেলিম রেজার পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। সেলিম রেজা বর্তমানে কোথায় আছেন সে ব্যাপারেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সঠিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি সেলিম রেজার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের ব্যাপারে শরীয়তপুরের শৌলপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইয়াছিন হাওলাদারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা বন্ধ করে রাখায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অপর অভিযুক্ত শরীয়তপুরের শৌলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন আকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ করেননি। এমনকি খুঁদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি তার কোন উত্তর না দেয়ায় কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।