খাবারের সন্ধানে গহীন বন ও চা-বাগান থেকে লোকালয়ে চলে আসে প্রায় ৬ ফুট দীর্ঘ একটি বার্মিজ অজগর। কয়েকদিন ধরে সিলেট নগরীর খাসদবীর এলাকায় অজগরটির উপস্থিতি টের পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর সদস্যরা টানা তিন দিন অভিযান চালিয়ে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
বুধবার খাসদবীর এলাকা থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুট এবং ওজন ৮ কেজি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সংগঠনের দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক ও সিলেট জেলা প্রতিনিধি নোমান হোসাইন উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, পাশের চা-বাগান থেকে খাদ্যের সন্ধানে অজগরটি লোকালয়ে চলে আসতে পারে। ঘন ঝোপঝাড়ের কারণে প্রথমদিকে সাপটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না। পরে টানা তিন দিন ধরে এলাকা পরিষ্কার ও তল্লাশি চালানোর পর এর অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। এরপর নিরাপদে অজগরটিকে উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নগরীর পার্শ্ববর্তী সালুটিকর ছালিয়া এলাকা থেকেও প্রায় ৫ ফুট দীর্ঘ একটি দুধরাজ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। একটি গোয়ালঘরের পাশের মাটির গর্তে সাপটির অবস্থান শনাক্ত হলে খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সেটিকে উদ্ধার করেন। দুধরাজ নির্বিষ হওয়ায় এটি মানুষের জন্য বিষধর সাপের মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে জানান তারা।
নোমান হোসাইন বলেন, উদ্ধার করা অজগরটি সুস্থ রয়েছে। বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই এটিকে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বনভূমি কমে যাওয়ায় খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে অনেক বন্যপ্রাণীই এখন বিভিন্ন সময় লোকালয়ে চলে আসে। তাই সাপ দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে আঘাত বা হত্যা না করে উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উদ্ধার অভিযান শেষে স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে একটি ব্রিফিংও করেন নোমান হোসাইন। এতে সাপের কামড়ের পর করণীয়, নির্বিষ সাপ শনাক্ত করার উপায় এবং সাপ নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন কুসংস্কারের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সাপসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রতি সহনশীল ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।