সীমান্তের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি জোরদারে থার্মাল ড্রোন, নাইট ভিশন ও ডিজিটাল সারভেইল্যান্স প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
মঙ্গলবার সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেধা, প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন বাহিনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, সীমান্তের দুর্গম ও কঠিন এলাকাগুলোতে ডিজিটাল সারভেইল্যান্স, নাইট ভিশন ও থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। একই সঙ্গে চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অস্ত্রসহ অবৈধ পণ্য পাচার শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে বিজিবির সদস্যদের সারভেইল্যান্স ও ড্রোন ওয়ারফেয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবলও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ড্রোন তৈরির সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিজিবি নিজস্ব উদ্যোগে ড্রোন অ্যাসেম্বল ও তৈরি করছে। ভবিষ্যতে এ সক্ষমতাকে দেশের একটি প্রতিরক্ষা শিল্পে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), হেডকোয়ার্টার ও আঞ্চলিক কমান্ডারদের কার্যালয় থেকে দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে দুর্যোগকালীন সময়েও ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দুর্যোগের সময় বিজিবির উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ড্রোন ব্যবহারের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ড্রোনের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।