মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা

বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ ছাড়া মুক্তি নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৬ এএম
বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ ছাড়া মুক্তি নেই

রাজধানী ঢাকার মতো জনবহুল শহরে গণস্বাস্থ্য রক্ষায় মশা নিয়ন্ত্রণ একটি মৌলিক দায়িত্ব। ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিনিয়ত মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, হাজারো মানুষকে পঙ্গুত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। তাই নগরবাসীর নিরাপদ জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কার্যকর মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অপরিহার্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দুই সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগই মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও পরিস্থিতি অনুকূলে আসছে না। ফগিং ব্যবহারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ধরে একই পদ্ধতি চালু রয়েছে। গবেষকরা বারবার বলেছেন, এডিস ও কিউলেক্স মশা দমনে একই কৌশল কার্যকর নয়। অথচ সিটি করপোরেশন সব সময় একই ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একই ওষুধ ব্যবহারের ফলে এডিস মশার মধ্যে প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়েছে। ফলে কীটনাশক ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বরং এভাবে অর্থ ব্যয় করে লোক-দেখানো কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। গত এক দশকে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ঢাকা এখনো ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহর। এটি স্পষ্ট করে যে শুধু বাজেট বাড়িয়ে নয়, পুরো মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাই বৈজ্ঞানিকভাবে পুনর্গঠন করতে হবে। আমরা মনে করি, এখনই প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ফগার মেশিনের ধোঁয়া নয়, বরং সমন্বিত কৌশল নিতে হবে, যেখানে থাকবে লার্ভা ধ্বংস, পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। একই সঙ্গে কীটনাশক ক্রয় ও প্রয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয়, বরং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। তাই নগরবাসীর জীবন রক্ষায় সিটি করপোরেশনকে লোক-দেখানো পদক্ষেপ বাদ দিয়ে কার্যকর, বিজ্ঞানভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ নিতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা মানে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়ানো। তাই এখনই প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ—যাতে নগরবাসী নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক জীবনযাপন করতে পারে।