বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়

সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩২ এএম
সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা

চিকিৎসা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের ফি, হাসপাতালের খরচসহ নানা ধরনের ব্যয় মেটাতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশের একটি পরিবারের মাসিক গড় চিকিৎসা ব্যয় ৩ হাজার ৪৫৪ টাকা, যা মোট পারিবারিক ব্যয়ের প্রায় ১১ শতাংশ। একই গবেষণায় উঠে এসেছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট চিকিৎসা ব্যয়ের সর্বোচ্চ ২৬ শতাংশ যায় ওষুধে এবং ১৭ শতাংশ ব্যয় হয় রোগনির্ণয় পরীক্ষায়। চিকিৎসা ব্যয়ের বড় একটি অংশ মানুষকে নিজের পকেট থেকেই বহন করতে হচ্ছে। সাম্প্রতিক আরেক গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৭৯ শতাংশই ব্যক্তির নিজস্ব অর্থ থেকে মেটানো হয়। এর ফলে অসুস্থতা শুধু শারীরিক সমস্যা তৈরি করছে না, অনেক পরিবারের জন্য তা বড় ধরনের আর্থিক সংকটও ডেকে আনছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগের চিকিৎসায় খরচ বেড়ে গেলে সঞ্চয় ভাঙা, ঋণ নেওয়া কিংবা সম্পদ বিক্রি করার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে অনেক পরিবারকে। পাশাপাশি ওষুধের দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উচ্চমূল্যের ওষুধ ব্যবহারের কারণে চিকিৎসা ব্যয় ক্রমেই উর্ধমুখী হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, হামের চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে ৮৯ শতাংশ পরিবারকে ঋণ নিতে হয়েছে এবং ৬১ শতাংশ পরিবার ভেঙেছে সঞ্চয়। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালেও অনেক সময় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যায়না ফলে রোগীকে বাইরে থেকে সেগুলো কিনতে হচ্ছে। অবশ্য স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। কিন্তু শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই চিকিৎসা ব্যয় কমবে না; সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ কমাতে সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বাড়াতে হবে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ফি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধে নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে ওষুধের দাম নির্ধারণে স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। তাই স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্য হতে হবে সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।