বুড়িগঙ্গার ঘাটে টোল না চাঁদা-জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
বুড়িগঙ্গার ঘাটে টোল না চাঁদা-জবাবদিহি নিশ্চিত হোক

বুড়িগঙ্গা নদী শুধু রাজধানীর একটি নৌপথ নয়, হাজারো মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম অবলম্বন। এই নৌপথে চলাচলকারী নৌকার মাঝিরা স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই ঘাটে টোল আদায়কে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ শুধু তাদের জীবিকাকেই সংকটে ফেলে না, জনস্বার্থ ও সুশাসনের প্রশ্নও সামনে আনে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে, ওয়াইজঘাট থেকে কেরানীগঞ্জগামী নৌকার মাঝিদের অভিযোগ, প্রতিবার পারাপারে ৫০ টাকা ভাড়ার মধ্যে ২০ টাকা ঘাট ইজারাদারকে দিতে হচ্ছে। তাদের দাবি, দিনে ২৫ থেকে ৩০ বার যাত্রী পারাপারের ফলে একজন মাঝিকে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে আয়ের বড় অংশই এভাবে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে ঘাট ইজারাদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েছেন এবং বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত টোলের ভিত্তিতেই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। মাঝিরাই নাকি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে নিজেরাই এ পদ্ধতি চালু করেছেন। দুই পক্ষের এমন বিপরীত বক্তব্যে প্রকৃত সত্য নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। বিআইডব্লিউটিএর ইজারার শর্ত অনুযায়ী টোল আদায়ের নিয়ম যদি নির্দিষ্ট থাকে, তবে বাস্তবে কীভাবে অর্থ আদায় হচ্ছে, তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করা প্রয়োজন। কারণ, অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বৈধ টোল আদায়ের আড়ালে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। এর অন্যতম কারণ কার্যকর তদারকির অভাব এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির দুর্বল ব্যবস্থা। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা প্রায়ই নিজেদের অধিকার রক্ষায় অসহায় বোধ করেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই অনিয়ম থাকলেও তা দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থেকে যায়। বুড়িগঙ্গার ঘাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে টোলের হার প্রকাশ্যে প্রদর্শন, ডিজিটাল বা রসিদভিত্তিক আদায় ব্যবস্থা চালু এবং বিআইডব্লিউটিএর নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে মাঝিদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। নদীপথের সেবা ও ঘাট ব্যবস্থাপনা এমন হওয়া উচিত, যেখানে ইজারাদারের ন্যায্য অধিকার যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি মাঝি ও যাত্রীও কোনো ধরনের অনিয়মের শিকার হবেন না। সুশাসনের মূল ভিত্তি হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি। বুড়িগঙ্গার ঘাট ব্যবস্থাপনায় সেই নীতির বাস্তব প্রতিফলন এখন সময়ের দাবি।