ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত শনিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪২ জন। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে, আর মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জনের। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, জুলাই মাসের মাত্র ১৮ দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় চার হাজার মানুষ এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। ডেঙ্গু রোগীর ভৌগোলিক বিস্তারও নতুন বাস্তবতার কথা জানাচ্ছে। একসময় রাজধানীকেন্দ্রিক থাকলেও এখন বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে, আর মৃত্যুর সংখ্যায় এগিয়ে ঢাকা বিভাগ। ফলে ডেঙ্গুকে আর শুধু নগরকেন্দ্রিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি এখন জাতীয় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার ৬১ শতাংশ, নারীর হার ৩৯ শতাংশ। যদিও এ তথ্যের পেছনে বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাগত কারণ থাকতে পারে, তবুও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা এবং হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি আরও জোরদার করা জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সাধারণ নাগরিক-সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, নির্মাণাধীন ভবন ও বাসাবাড়ির জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্তের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়াও সময়ের দাবি। ডেঙ্গু মৌসুমি হলেও এর প্রভাব কমাতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক প্রস্তুতির বিকল্প নেই। প্রতি বছর একই ধরনের সংকটের পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, শুধু মৌসুমভিত্তিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বছরজুড়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।