পাবনার ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে গবাদি পশুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫০টি গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে গরুর বাছুর। রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের সরকারি সরবরাহ না থাকায় আক্রান্ত গরুগুলোকে কার্যকর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভ্যাকসিনের চাহিদাপত্র বারবার ঢাকায় পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ পাওয়া যায়নি। ফলে একদিকে রোগের বিস্তার বাড়ছে, অন্যদিকে গরু মারা যাওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও খামারিরা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ি, ঈশ্বরদীতে কৃষক ও বিভিন্ন খামারে প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার গরু রয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ২০ থেকে ৩০ হাজারের বেশি গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত গরুর মধ্যে প্রতি ২৫টিতে অন্তত ১০টি মারা যাচ্ছে বলে দপ্তরটির হিসাব। বিশেষ করে আক্রান্ত বাছুরের বেশির ভাগই শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় উপজেলার পাকশী, সাঁড়া, সলিমপুর, দাশুড়িয়া, লক্ষ্মীকুন্ডা, মুলাডুলি ও সাহাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের কৃষক ও খামারিদের মধ্যে গরুর মৃত্যু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গরু মারা যাওয়ার আশঙ্কায় কম দামে আগে ভাগেই বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. ফারুক হোসেন বলেন, উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই একাধিক গরু, বিশেষ করে বাছুর, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গরু নিয়ে আসছেন অনেকেই। কিন্তু প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন না থাকায় আক্রান্ত গরুকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী কৃষক ও খামারিদের অনেকেই আক্রান্ত গরু নিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে ছুটে আসছেন। তবে ভ্যাকসিন না থাকায় চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়েই তাদের বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
কৃষক আলতাব হোসেন বলেন, কৃষিকাজ করে এমনিতেই নানা কারণে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। তার ওপর এ বছর ল্যাম্পি স্কিন রোগে গরু আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলে এত দুশ্চিন্তা করতে হতো না। ভ্যাকসিন না পেয়ে আমরা গরু বাঁচাতে পারছি না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন জানান, ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুকে নির্ধারিত মাত্রায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা গেলে রোগ নিয়ন্ত্রণে এনে গরু বাঁচানো সম্ভব। একটি ভায়ালে থাকা ভ্যাকসিন দিয়ে প্রায় ১০টি গরুকে দেওয়া যায়। তবে সরকারি সরবরাহ না থাকায় তারা আক্রান্ত গরুগুলোকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দিতে পারছেন না।
তিনি বলেন, প্রতিটি ভায়ালের বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। সরকারি পর্যায়ে ভ্যাকসিনের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আক্রান্ত বিপুল সংখ্যক গরুকে বাঁচানো সম্ভব হবে। দ্রুত ভ্যাকসিন সংকট দূর করা না গেলে রোগের বিস্তারের সঙ্গে গরু মৃত্যুর হারও আরও বেড়ে যেতে পারে।