সৈয়দপুরে খাদ্যপণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানে অভিযান জোরদারের দাবি

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
সৈয়দপুরে খাদ্যপণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠানে অভিযান জোরদারের দাবি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আবাসিক এলাকা ও বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাচ্চি হাউজ,বিরিয়ানি দোকান,খাবার হোটেল, শিশুখাদ্য,আইসক্রিম তৈরির কারখানা, চানাচুর ও রুটি ফ্যাক্টরিসহ নানা ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট-ট্যাক্সের নথিপত্র কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সচেতন মহলের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন মহল্লায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার বাড়িঘরেই নানা ধরনের উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। খাদ্যপণ্য তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি,পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ।

শুধু খাদ্যপণ্য নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল সার, গুল, তেল পাম্প, লেদ মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত প্রভাব,অগ্নিনিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঝে মধ্যে দু-একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান থেকে যায় নজরদারির বাইরে। ফলে নিয়মিত তদারকি না থাকলে অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সচেতন মহল মনে করছে, শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত নথি, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে স্থানীয় ভোক্তারা বলেন, খাদ্যপণ্যের মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে মানুষের জীবন-স্বাস্থ্য জড়িত। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

সৈয়দপুরের সচেতন মহল, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে