ভবন সংকটে ১০ মাস ধরে শহিদ বেদিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

এফএনএস (মোঃ সিদ্দিকুল ইসলাম সিদ্দিক; চিলমারী, কুড়িগ্রাম) :
| আপডেট: ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম | প্রকাশ: ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
ভবন সংকটে ১০ মাস ধরে শহিদ বেদিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ভবনটি ভেঙে ফেলার পর কেটে গেছে প্রায় ১০ মাস। এখনো নির্মাণ হয়নি নতুন ভবন, মেলেনি বরাদ্দও। ফলে নতুন ভবনের অপেক্ষায় থাকা কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার খরখরিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮১ শিক্ষার্থীকে পাঠদান কার্যক্রম নিতে হচ্ছে শহিদ মিনারের বেদি, টিনের ছাপরা কিংবা খোলা আকাশের নিচে। বিদ্যালয়টির একটি পুরোনো ভবন অপসারণের পরই মূলত এ সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দুটি কক্ষের একটিতে দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যটিতে চলছে তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান। বাকি শ্রেণিগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ। সরে জমিনে দেখা যায়, টিনের তৈরি অস্থায়ী ছাপরায় গাদাগাদি করে বসে আছে শিক্ষার্থীরা। বাইরে প্রচণ্ড রোদ থাকায় ছাপরার ভেতরও তৈরি হয়েছে অসহনীয় গরম। বৃষ্টি হলে সেখানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় কখনো শহিদ মিনারের বেদিতেও ক্লাস নিতে হচ্ছে শিক্ষককে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে পাঠদান চলায় শিশুদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। গরমে দীর্ঘসময় টিনশেডে অবস্থানের কারণে অসুস্থতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি রয়েছে। বৃষ্টির সময় ভিজে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে এখানে ১০ জন শিক্ষক ও ১৮১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৯৯০ সালে দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। পরে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ‘পিডি-২’ প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে পুরোনো ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০২৫ সালে চিলমারী এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। একই সময়ে নতুন পাঁচ কক্ষের ভবনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে বরাদ্দ না আসায় নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। এরপরও ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর নিলামের মাধ্যমে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। ভবন অপসারণের পর নতুন ভবন নির্মাণের বদলে বিদ্যালয়ে দেখা দেয় শ্রেণিকক্ষ সংকট। এ নিয়ে অভিভাবকদের প্রশ্ন, নতুন ভবনের অর্থায়ন ও অনুমোদন নিশ্চিত না করেই কেন পুরোনো ভবনটি অপসারণ করা হলো? বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না করেই ভবন ভেঙে ফেলায় শিশুদের দুর্ভোগের দায়ই বা কে নেবে? অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘শিশুরা রোদে ও গরমের মধ্যে বসে ক্লাস করছে। বৃষ্টি হলে আবার ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। কর্মকর্তারা এসে পরিস্থিতি দেখে গেলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।’ সহকারী শিক্ষক আয়শা আক্তার বলেন,‘শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন। আবহাওয়া খারাপ হলে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করাও সম্ভব হয় না।’ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোস্তফা বলেন, ‘ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ভবনের বরাদ্দ পেতে দেরি হওয়ায় দুটি টিনশেড ঘরের ব্যবস্থা করে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে। তবে সব শ্রেণির জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ করা সম্ভব হয়নি।’ চিলমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন না আসা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে পাঠদান চালিয়ে নিতে দুটি ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরও কক্ষ নির্মাণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রক্রিয়া চলছে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন,‘ভবন নির্মাণের জন্য পিডি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। শিগগিরই পিডি-৫ প্রকল্প চালু হবে। তখন বিদ্যালয়টির নতুন ভবনের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়ার আশা করছি। আপাতত শিক্ষার্থীদের পাঠদানে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য টিনশেড কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে । 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে