আশাশুনিতে রাস্তার ৫০ হাজার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
আশাশুনিতে রাস্তার ৫০ হাজার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ
ছবি: FNS

আশাশুনি উপজেলা সদরের হাঁসখালী গ্রামে চলাচলের একমাত্র রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ হাজার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো তদন্ত হয়নি। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করে প্রতিকার চাওয়া হলেও এখনও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় জনমনে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাইয়াখালী ব্রিজ থেকে হাঁসখালী বৈদ্যবাড়ি মোড় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হেরিংবোন বন্ড (ইট বিছানো) পদ্ধতিতে নির্মিত রাস্তাটির প্রায় ৫০ হাজার ইট স্থানীয় ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকার তুলে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ওই ইট স্কুলের পাশ দিয়ে অন্য একটি সড়কের কাজে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে রাস্তার বরাদ্দকৃত অর্থও (ইটের মূল্যসহ) উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার কারণে গৎ বর্ষা মৌসুমে কাদাপানিতে চলাচল করতে গিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগের স্বীকার হন।

এ ঘটনায় প্রায় দেড় মাস আগে ৩০/৯/২৬ তায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ভারতে চলে যান এবং পরবর্তীতে আবার দেশে ফিরে আসেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংবাদ প্রকাশের পর প্রায় এক মাস সাত দীন আগে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। আবেদনে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়। গৎ ২৮ অক্টোবর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং এলাকাবাসীর মাস পিটিশনের বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সভাকে অবহিত করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে ইউএনও জানালেও এখন পর্যন্ত সরেজমিন তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, লিখিত অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশ এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপনের পরও কেন তদন্ত হচ্ছে না? তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মঙ্গল চন্দ্র সরকারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও রাস্তার ইট এবং বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে