লালমনিরহাটে জাতীয় শিশুকিশোর সংগঠন ‘ফুলকুঁড়ি আসর’ আয়োজিত জেলা পর্যায়ের হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় (ক গ্রুপ) অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুল। প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়টির দুই খুদে শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এলাকায় এক গৌরবময় ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই জোড়া সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারী শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলের প্রথম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী সালমান ফারসি রেদওয়ান। এছাড়া একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াছিন আরাফাত দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী।
খুদে এই শিক্ষার্থীদের এই ঈর্ষণীয় সাফল্যে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করার সময় শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে জেলা মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কার ও সম্মাননা সনদ তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুল ইসলাম এবং জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এনডিসি) আল-আমিন ইসলাম।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী সালমান ফারসি রেদওয়ান জানায়, প্রথম স্থান অর্জন করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে নিয়মিত অনুশীলন বড় ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও পড়াশোনার পাশাপাশি এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমি আরও ভালো করতে চাঁই।
সন্তানের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা বলেন, সন্তানের এমন অর্জনে আমড়া অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার এই সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিকতা এবং পরিবারের উৎসাহ-প্রেরণা রয়েছে। সে যেন ভালো মানুষ হওয়ার পাশাপাশি পড়াশোনা ও অন্যান্য কার্যক্রমে আরও এগিয়ে যেতে পারে, এটাই আমাদের প্রধান প্রত্যাশা। শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলের পরিচালক ও অধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, একই প্রতিযোগিতায় আমাদের বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করা অত্যন্ত গৌরব ও আনন্দের বিষয়। আমড়া সবসময় শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে উৎসাহিত করে থাকি। এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও আরও ভালো করতে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম এই সাফল্য সম্পর্কে বলেন, শিশুদের সুন্দর হাতের লেখা চর্চা, মনোযোগ ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মবিশ্বাস ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে ওঠে। শিবরাম আদর্শ পাবলিক স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর এই সাফল্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত মেধা ও প্রতিভা বিকাশে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন এবং এই অর্জন তাদের সেই পথচলাকে আরও বেশি গতিশীল করবে। প্রতিবেদনটি আপনার পছন্দমতো যেকোনো সংবাদপত্রে বা অনলাইন পোর্টালে প্রকাশের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে জানাতে পারেন।