আশাশুনি উপজেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম বাস্তবায়নে ফলপ্রসু উদ্যোগ গ্রহণ করায় জনমনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
আশাশুনি উপজেলার ১১ ইউনিয়নে প্রায় ৩ লক্ষ্য মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রবনতা কমিয়ে আনা, শান্তিপূর্ণ ভাবে নাগরিকের জীবন যাপনে সহযোগিতা দিতে থানা পুলিশ কাজ করে থাকেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধের ব্যবস্থা, অভিযোগের তদন্ত পরিচালনা, অপরাধে জড়িতদের গ্রেপ্তার, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, আইনগত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমান পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), সকল এসআই, এএসআই ও কনস্টবলদের নিয়ে নানা কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। এরই অংশ হিসাবে রাতে পুলিশ পাহারা জোরদার, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও চেক পোস্ট বসান, মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান, ওয়ারেন্টের আসামি গ্রেফতারে কঠোরতা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রোধ ও গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জনগণকে সচেতন করতে নিয়মিত মতবিনিময়, প্রচারণা, মসজিদ-মন্দিরে কথা বলা হচ্ছে। এমনকি পুলিশ তদন্দ কেন্দ্রের ইনচার্জকেও হাট বাজার, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময় ও সচেতনতামূলক কথা বলার কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
গতমাসে শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে নেয়া হয়েছিল নানামুখী নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। উপজেলা প্রশাসন, আনসার ভিডিপি সদস্য, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, হিন্দু ধর্মীয় নেতা ও পূজা উদ্যাপন পরিষদ, পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ একত্র হয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পূজা সম্পন্ন হয়। বিজয়া দশমীর দিনে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। সেখানে সাবেক এমপি কাজি আলা উদ্দীন, পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার প্রনব কুমার, জাতীয় ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের পিতা অবঃ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কিশোরী মোহন সরকার ও ওসি শাহিদুর রহমান একসাথে স্টেজেন বসে নৌকা বাইচ দেখেছিলেন। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিগত সময়ে যতগুলো দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিল, এবারের অনুষ্ঠান ছিল তার মধ্যে অন্যতম।