মোহাম্মদ সোহেল মিয়া একজন সৃজনশীল ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মানুষ। একাধারে তিনি শিক্ষক, সাংবাদিক, বাচিকশিল্পী ও সাংস্কৃতিককর্মী। পেশাগত দায়িত্ববোধ, সততা, নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। দুই দশকের বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রাজবাড়ীর সাংবাদিকতা অঙ্গনের একজন পরিচিত মুখ হিসেবে।।
লেখালেখি থেকে সাংবাদিকতায় পদার্পণ:
ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখির প্রতি ছিল সোহেল মিয়ার গভীর আগ্রহ। সেই আগ্রহ থেকেই দেশের বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে। লেখালেখির সূত্র ধরে সাংবাদিকতার প্রতি আকৃষ্ট হন তিনি। ২০০২ সালে রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘অনুসন্ধান’ পত্রিকায় কাজের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ করেন।
এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে তাঁর কর্মপরিধি। সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি, তথ্য অনুসন্ধান এবং মানুষের কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন নিজের পেশাগত যাত্রা। সংবাদপত্র ও অনলাইন গণমাধ্যমে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে নানা দিক থেকে।
সাংবাদিকতা জীবনে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ’, দৈনিক খবর, দৈনিক বর্তমান, দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ, দৈনিক যায়যায়দিন, ইংরেজি দৈনিক ডেইলি নিউ এজ, দৈনিক আমাদের নতুন সময়, ফেয়ারনিউজ ও রাইজিংবিডি ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম মাল্টিমিডিয়া অনলাইন সংবাদমাধ্যম বার্তা২৪. কমের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি এবং রাজবাড়ী থেকে প্রকাশিত দৈনিক মাতৃকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জন্ম ও পারিবারিক পরিচয়:
১৯৮০ সালের ১৫ অক্টোবর রাজবাড়ী জেলার তৎকালীন পাংশা উপজেলার, বর্তমানে কালুখালী উপজেলার, কালিকাপুর গ্রামে নানা মরহুম আব্দুল মজিদ মোল্লার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন সোহেল মিয়া। তাঁর বাবা মরহুম মোজাম্মেল হোসেন মিয়া ছিলেন একজন শিক্ষক। মা মরহুমা সেলিনা মোজাম্মেল ঝর্ণা ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিণী।
দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছোট। বড় বোন ফেরদৌসি বেগম খুশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাঁর ভগ্নিপতি হুমায়ুন কাজী একজন ব্যবসায়ী। তাঁদের একমাত্র সন্তান কাজী জীম মেধাবী ও চৌকস শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পদে ৯৭তম ব্যাচের আইএসএসবির সুপারিশপ্রাপ্ত।
সোহেল মিয়ার সহধর্মিণী মর্জিনা খাতুনও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তাঁদের একমাত্র সন্তান অলিন বিন সোহেল। বর্তমানে সে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি মেধার স্বাক্ষর রেখে অলিন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুল এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে।
নানা বাড়িতে জন্ম হলেও সোহেল মিয়ার শৈশব-কৈশোর ও বেড়ে ওঠা পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাইককান্দি গ্রামে। বর্তমানে স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি বালিয়াকান্দি সদরে নিজ বাড়িতে বসবাস করছেন।
শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু:
২০০৬ সালে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শাহ জাফর টেকনিক্যাল কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। শিক্ষকতা তাঁর কাছে কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একটি দায়িত্বশীল প্রয়াস।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা চালিয়ে গেলেও দুটি পেশার দায়িত্ব পালনে তিনি স্বতন্ত্র সময় ও কর্মপরিসর বজায় রাখার নীতিতে বিশ্বাসী। তাঁর মতে, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হয়, আর সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে দায়িত্ব পাঠক, সমাজ ও সত্যের প্রতি।
শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার এই দ্বৈত পথচলায় তিনি পেশাগত শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
সত্য প্রকাশে আপসহীন সাংবাদিক:
মফস্বল সাংবাদিকতা নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, তথ্য সংগ্রহের প্রতিবন্ধকতা, রাজনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রতিকূলতা এবং বিভিন্ন মহলের অসন্তুষ্টি—সবকিছু সামলে দায়িত্ব পালন করতে হয় একজন সংবাদকর্মীকে। সোহেল মিয়ার সাংবাদিকতা জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়।
দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সত্য ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তবে এসব বাধা তাঁকে পেশা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। বরং অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের দায়িত্ববোধকে আরও দৃঢ় করার চেষ্টা করেছেন।
তাঁর সাংবাদিকতার মূল দর্শন—সত্যনিষ্ঠ থাকা, তথ্যের যথার্থতা যাচাই করা এবং সাধারণ মানুষের কথা তুলে ধরা। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখার গুরুত্বে তিনি বিশ্বাস করেন।
বালিয়াকান্দি ও রাজবাড়ী অঞ্চলের মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা, উন্নয়ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকতায় অবদান রেখে চলেছেন।
নেতৃত্বে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাব:
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় সোহেল মিয়া। তিনি বর্তমানে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নেও তিনি সোচ্চার। সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি সেই স্বাধীনতার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পেশাগত সততা ও জবাবদিহিও অপরিহার্য।
জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সহকর্মীদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং পেশাগত সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা রয়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য বজায় রাখাকে তিনি সুস্থ সাংবাদিকতার অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করেন।
বাচিকশিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উজ্জ্বল উপস্থিতি:
সোহেল মিয়ার পরিচয় কেবল শিক্ষক ও সাংবাদিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি একজন আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপক ও সাংস্কৃতিককর্মী হিসেবেও পরিচিত। শুদ্ধ উচ্চারণ, সাবলীল উপস্থাপনা এবং বাচনভঙ্গির প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। উপজেলা আবৃত্তি পরিষদ নামে তার প্রতিষ্ঠিত একটি আবৃত্তি সংগঠন রয়েছে।
বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠান এবং প্রশাসন আয়োজিত সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে উপস্থাপক হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণ রয়েছে। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু, পরিবেশ ও উপলক্ষের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপস্থাপনা করার মধ্য দিয়ে তিনি দর্শক-শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
বই পড়া, কবিতা আবৃত্তি, ভ্রমণ এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার প্রতি তাঁর রয়েছে বিশেষ অনুরাগ। এসব আগ্রহ তাঁর চিন্তা, মনন ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমৃদ্ধ করেছে।
কর্মের স্বীকৃতি: পদক ও সম্মাননা:
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক পদক, পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন সোহেল মিয়া। এসব স্বীকৃতি তাঁর পেশাগত পথচলায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
২০১২ সালে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও নতুনধারা ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে কৃষি উন্নয়নবিষয়ক লেখালেখির জন্য তিনি সেরা লেখক-সাংবাদিক পদক অর্জন করেন।
২০১৫ সালে স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরির জন্য নতুনধারা ফাউন্ডেশন তাঁকে আবারও পুরস্কৃত করে। ওই আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল এটিএন নিউজ ও বাংলাদেশ প্রতিদিন। পরবর্তী সময়ে নতুনধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকেসহ ৬৪ জেলার ১০০ জন সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
২০১৬ সালে বৃহত্তর ফরিদপুরের সাংবাদিকদের আঞ্চলিক সংগঠন বন্ধন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন তাঁকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করে। ২০২২ সালে রাজবাড়ী সার্কেলের উদ্যোগে রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ‘মানুষের জন্য সাংবাদিকতা অ্যাওয়ার্ড-২০২২’-এ তিনি জেলার সেরা সাংবাদিকের পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছর টইটই প্রকাশন আয়োজিত ফরিদপুরের মধুখালীতে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সাহিত্য উৎসবে তাঁকে সাহিত্য সম্মাননা দেওয়া হয়।
এসব পুরস্কার ও সম্মাননা তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। তবে তাঁর কাছে পেশাগত সাফল্যের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো পাঠকের আস্থা, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ।
মা ছিলেন প্রেরণার অন্যতম উৎস:
সোহেল মিয়ার জীবনের সাফল্য ও পথচলার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন তাঁর স্নেহময়ী মা সেলিনা মোজাম্মেল ঝর্ণা। জীবনের নানা পর্যায়ে মায়ের ভালোবাসা, দোয়া ও অনুপ্রেরণাকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল মায়ের আকস্মিক মৃত্যু তাঁর জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। জীবনের প্রতিটি সাফল্যে যাঁর উপস্থিতি ও আশীর্বাদ অনুভব করতেন, সেই মাকে হারানোর বেদনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অধ্যায়।
তবু মায়ের শিক্ষা, আদর্শ ও স্মৃতিকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এবং সমাজের মানুষের পাশে থাকার মধ্য দিয়ে জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোকে ধরে রাখাই তাঁর প্রত্যাশা।
জীবনদর্শন: সবার উপরে মানুষ সত্য:
সোহেল মিয়া বিশ্বাস করেন, মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানবিকতা। তাঁর জীবনদর্শনের সঙ্গে মিশে আছে মধ্যযুগের কবি চণ্ডীদাসের সেই অমর বাণী—‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ সৃষ্টিকর্তার প্রতি তাঁর রয়েছে গভীর বিশ্বাস। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন, সত্যের পক্ষে থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য।
আকাশের মেঘ, বৃষ্টির দিন কিংবা প্রকৃতির পরিবর্তন তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের অংশ হলেও ইতিহাস-ঐতিহ্য, বইপড়া ও ভ্রমণের প্রতি তাঁর আকর্ষণ প্রবল। জীবনের শেষ দিনটি রৌদ্রোজ্জ্বল ও ঝলমলে হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা তিনি পোষণ করেন, তার মধ্যে যেন জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন ঘটে।
সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়:
সাংবাদিকতার দুই দশকের বেশি সময়ের পথচলায় সোহেল মিয়া অর্জন করেছেন অভিজ্ঞতা, পরিচিতি ও স্বীকৃতি। শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আবৃত্তি এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। তাঁর কাছে সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়; এটি মানুষের কথা বলার, সমাজের সমস্যা তুলে ধরার এবং জনস্বার্থ রক্ষায় ভূমিকা রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একইভাবে শিক্ষকতা তাঁর কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আলোকিত করার দায়িত্ব।
তিনি চান, তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষ উপকৃত হোক, সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হোক এবং পরবর্তী প্রজন্ম সততা, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা গ্রহণ করুক।
সময় বদলাবে, কর্মক্ষেত্র বদলাবে, জীবনের নানা অধ্যায়ও একসময় শেষ হবে। কিন্তু মানুষের কল্যাণে করা কাজ, সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ব এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদান—এসবই একজন মানুষের স্থায়ী পরিচয় হয়ে থাকতে পারে।
সেই বিশ্বাসকে সঙ্গী করেই সোহেল মিয়ার পথচলা। তাঁর প্রত্যাশা, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সততা ও মানবিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। আর মৃত্যুর পরও তাঁর কর্ম, আদর্শ ও মানুষের জন্য করা প্রচেষ্টা তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে মানুষের স্মৃতিতে।
দুই দশকের সাংবাদিকতার মাইলফলকে সোহেল মিয়ার এই পথচলা তাই কেবল একজন সাংবাদিকের পেশাগত অর্জনের গল্প নয়; এটি একজন শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, পরিবারের দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং সমাজসচেতন মানুষের নিরন্তর এগিয়ে চলার আখ্যান।