জামালপুরের সরিষাবড়ি তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া উৎপাদনকারি যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটে আবারও অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য ফের সার উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। গ্যাসের চাপসংকট কাটিয়ে উৎপাদনে ফেরার মাত্র দুই দিন পরই আবার বন্ধ হয়ে যায় রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (জেএফসিএল) ইউরিয়া উৎপাদন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে পড়ে কারখানাটির উৎপাদন। গত ১৫দিন বয়লারের লিকেজ মেরামত শেষে শুক্রবার সকালে উৎপাদন শুরু করেছিল কারখানাটি। উৎপাদন শুরুর সময় প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কার মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় থেমে গেল ইউরিয়া উৎপাদন। জানাযায়,প্রায় আড়াই বছর ধরে গ্যাসসংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সার কারখানার সংকট যেন কাটছেই না। কখনও গ্যাসের চাপ কম, কখনও বয়লারে লিকেজ, আবার কখনও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ এভাবে বারংবার উৎপাদন চালু আর বন্ধের ঘটনায় স্থিতিশীল উৎপাদনে ফেরাতে কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান আদ্যে হবে কি’ না তা’ নিয়ে এলাকায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারখানা সুত্রে জানাযায়,গত ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাস সরবরাহ শুরু করলেও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় সার উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। আবার ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ ৮ কেজিতে নেমে এলে বয়লার ‘স্ট্রিপ’ করে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়। তারপর ১৫ ফেব্রুয়ারি গ্যাসের চাপ আরও কমে ৫ দশমিক ২ কেজিতে নেমে আসে। এতে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত ২০২৬ সালে ২০ সেপ্টেম্বর আবারও গ্যাস সরবরাহ শুরু করে তিতাস। ৬ অক্টোবর রাত ৩টা ১০ মিনিটে ইউরিয়া উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। কিন্তু উৎপাদন শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে, ৮ অক্টোবর, বয়লারে লিকেজ দেখা দেয়। ফলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। প্রায় ১৫ দিন পর বয়লারের লিকেজ মেরামত শেষে গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উৎপাদন শুরু করা হয়। কিন্তু দুইদিন স্থায়ী হলো না সেই উদ্যোগ। রবিবার ভোর ৫টার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় আবারও থেমে গেল সার উৎপাদন। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হওয়া কারখানাটি উৎপাদনের আবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ) গ্যাস প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা না গেলে সার উৎপাদন করা সম্ভব নয় বলে জানান। কত দিনের জন্য বন্ধ থাকবে এবং পুনরায় সরবরাহ শুরুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী জানতে চাইলে তিনি বলেন গ্যাসের সংযোগ ফিরলেই সার উৎপাদন করা সম্ভব নচেৎ সম্ভব না বলে জানিয়েছেন। যমুনা সার কারখানার দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। গ্যাসের চাপ ও পরিচালন পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা সম্ভব।কিন্তু দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকা এবং চালুর পরপরই আবার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে না। উৎপাদন চালু রাখতে গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করা এবং যন্ত্রপাতির নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা অতিব জরুরি। যমুনা সার কারখানায় উৎপাদিত ইউরিয়া জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের ১৯ জেলার সার সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে কারখানাটির উৎপাদন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সার সরবরাহ ব্যাপক চাপ তৈরি হতে পারে। ইরি-বোরো মৌসুমে সারের ঘাটতি দেখা দিবে এমনকি আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাবে।বিপাকে পরতে হবে এলাকার কৃষকদের এমনটি অভিমত ব্যাস্ত করেছেন এলাকাবাসি।