গজারিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে যাদু-টোনার অভিযোগ, পরিবারে আতঙ্ক

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) : | প্রকাশ: ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
গজারিয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে যাদু-টোনার অভিযোগ, পরিবারে আতঙ্ক

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের আঁধার মানিক গ্রামে এক কুয়েতপ্রবাসীর বাড়ির উঠানে রাতের আঁধারে অস্বাভাবিক কিছু চিহ্ন ও সামগ্রী রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, এসবের সঙ্গে যাদু-টোনার (কুফরি কালাম) মতো কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে। এ ঘটনায় পুরো পরিবারে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

গত বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে আঁধার মানিক গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আবুল হোসেন খাঁনের বাড়িতে এই রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটে।

বাড়ির বাসিন্দা কুয়েতপ্রবাসী রাসেল খাঁনের দাবি, রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা তাদের বাড়ির উঠান ও আশপাশে এসব সামগ্রী রেখে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা এগুলো দেখতে পান।


সরেজমিনে দেখা যায়, ঘটনাস্থলে একটি কাগজে রাসেল খাঁন, তার ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান রাইয়ান, ভাই রাকিব এবং দুই বোন মনি ও কুলসুমের নাম লেখা রয়েছে। 


নামগুলোর ওপর একটি তারকা আকৃতির চিহ্ন আঁকা। কাগজটিতে রক্তের মতো দেখতে একটি লালচে পদার্থসহ বিভিন্ন অস্বাভাবিক ও রহস্যময় প্রতীক রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


এছাড়া বাড়ির উঠানের মাটিতে বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে বড় একটি তারকা আকৃতির নকশা তৈরি করা এবং বিভিন্ন রঙ দিয়ে নানা ধরনের চিহ্ন আঁকা রয়েছে।


 তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে মাটিতে পড়ে থাকা মানুষের অবয়বের একটি পুতুল। পুতুলটির শরীরেও বিভিন্ন লেখা ও রহস্যময় চিহ্ন আঁকা রয়েছে।


 এর ঠিক পাশেই একটি প্যান্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের বড় ধরনের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোনো শত্রু পক্ষ যাদু-টোনা বা কুফরি কর্মকাণ্ডের আশ্রয় নিয়েছে।


 তবে প্রকৃতপক্ষে এগুলো কী এবং কী উদ্দেশ্যে, কারা করেছে-তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর কুয়েতপ্রবাসী রাসেল খাঁন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন।


 তিনি লেখেন, "পেছনে ক্ষতি না করে পারলে সামনে কর। এসব যদি কেউ করে থাকে, তাহলে গোপনে না করে সামনে এসে করার সাহস দেখানো উচিত।" সন্তানের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "আমার ১৮ মাসের বাচ্চা ছেলের সঙ্গে ও কী শত্রুতা? আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।"



এ ঘটনায় রাসেল খাঁনের পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় এলাকাতেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নকীব আকরাম হোসেন বলেন আমরা কোন অভিযোগ পাইনি অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে