দূর্গাপূজার বিশেষ ছুটির সঙ্গে যোগ হয়েছে কুয়াকাটা কার্ণিভাল

কুয়াকাটায় পর্যটকের সমাগমের সম্ভাবনায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
কুয়াকাটায় পর্যটকের সমাগমের সম্ভাবনায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ

সনাতন ধর্মের অনুসারিদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপূজার দুই দিনের ছুটির সঙ্গে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণায় মঙ্গলবার ২০ তারিখ থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা পাঁচদিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগমের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কুয়াকাটা কার্নিভাল-২০২৬ এর ঝাকঝমক দুইদিনের উৎসব। যেন সোনায় সোহাগা। কুয়াকাটায় এসবকে ঘিরে বিরাজ করছে এখন উৎসবমূখর পরিবেশ। প্রায় তিন শ’ হোটেল-মোটেল রিসোর্টসহ দেড় শতাধিক খাবার হোটেল ও অন্যান্য অন্তত তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ীরা এখন শুধু উন্মুখ হয়ে আছেন। এই ছুটির মধ্যেই ২৩ ও ২৪ অক্টোবর দুইদিনের বীচ কার্ণিভালকে ঘিরে এখন চলছে ব্যাপক সাজসজ্জা। প্রচার কার্য। বিশেষ করে উদ্বোধনী দিনে শুন্য পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি সৈকত পর্যন্ত বীচ ম্যারাথনের প্রস্তুতি চলছে জোরেশোরে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, পর্যটন কর্পোরেশন ইতোমধ্যে এই কার্ণিভালকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে প্রস্তুতি সভা করেছেন। বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট বাস্তবায়নে যেন মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আর আয়োজনকে ঘিরে লাখো পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় জমবে কুয়াকাটায়। এই মোক্ষম সুযোগকে পূঁজি করে হোটেল মোটেল থেকে শুরু করে সকল ব্যবসায়ীরা ব্যবসার পসরা সাজিয়েছেন। অপেক্ষার প্রহন গুনছেন। মুখিয়ে আছেন পর্যটক বরণের জন্য। পাশাপাশি দীর্ঘ বছরের লোকসানের ধকল কাটিয়ে কিছুটা হলেও ব্যবসা চাঙ্গা করার স্বপ্নে বিভোর আছেন সকল শ্রেণির ব্যবসায়ীরা। 

পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো: শামীমুজ্জামান জানান, আগামি ২৩-২৪ অক্টোবর দুই দিনের কুয়াকাটা কার্নিভালকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকার সদয় সম্মতি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়ের আব্দুর রহিম সাকি এমপি, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, পিরোজপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি মিজ সুলতানা জামান জুঁই, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড, নূরুন্নাহার চৌধুরী প্রমুখ। বর্তমানে কার্ণিভালকে ঘিরে ইভেন্ট ভিত্তিক প্রস্তুতি ও বাস্তবায়নের সকল বিষয় নিয়ে প্রতিদিন একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইভেন্টের মধ্যে প্রধান আকর্ষণ থাকছে বীচ ম্যারাথন। দেশবরেণ্য ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঘুড়ি উৎসব, সেলিব্রেটিদের বীচ ক্রিকেঁসহ নানা আয়োজন।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে কথা বলে জানা গেছে, কুয়াকাটার আধুনিক তারকামানের হোটেল প্রেসিডেন্ট পার্কের মহা-ব্যবস্থাপক (জিএম) এমজি মোর্শেদ খান জানান, তাঁদের হোটেলের সকল কক্ষ ২৩ তারিখ পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। তারাও আগত অতিথিদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন।

কুয়াকাটায় প্রথম তারকামানের সিকদার ভিলাস এন্ড রিসোর্ট এর ম্যানেজার (প্রশাসন) শাহিন আলম জানান, তাদের ৮০ শতাংশ কক্ষ  ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুক্ড হয়ে গেছে। এর মধ্যে ২১-২২ তারিখে কোন খালি নাই। এভাবে তারকা ও আধুনিক মানের প্রথম শ্রেণির অধিকাংশ হোটেলে ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন সভাপতি মোতালেব শরীফ জানান, দূর্গা পুজা ও কার্ণিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার দাবি তাঁদের এসোসিয়েশনভুক্ত ১০৫টি হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩০০ হোটেল-মোটেল রয়েছে। যেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের আবাসন সংকুলান হবে। বাকি পর্যটকরা আশাপাশের আলীপুর-মহিপুর, কলাপাড়া উপজেলা সদর কিংবা স্থানীয়দের বাড়িঘরে অবস্থান করতে পারবেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে বড় ও ভালো মানের হোটেলগুলোর অধিকাংশ কক্ষ বুক্ড হয়ে গেছে। এখন মাঝারি ও ছোট মানের হোটেলগুলোতে কিছু কক্ষ খালি রয়েছে। যা সরাসরি এসে পর্যটকরা বুকিং দিতে পারবেন। তবে নিরাপত্তা বিধানে আসা পুলিশ সদস্যদের জন্য প্রত্যেক হোটেল থেকে একটি করে কক্ষ রাখা হয়েছে। লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে প্রত্যাশা করেছেন মোতালেব শরীফ। দূর্গপুজা ও কার্ণিভালকে ঘিরে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল পুলিশের কয়েক শ’ সদস্য আগত পর্যটকের নিরাত্তা বিধানে কাজ করবেন বলে উপজেলা প্রশাসনসূত্র নিশ্চিত করেছে। কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান জানান, প্রশাসনের কয়েক স্তরের সমন্বিত উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থাকবে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরিবহন সেক্টরের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। পর্যটক-দর্শনার্থীও জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য সেবার জন্য ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম থাকছে। অস্থায়ী টয়লেট-ওয়াশরুম থাকছে। সর্বধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে কাণিভালকে ঘিরে।   তবে খাবার হোটেল ও অ্যভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থার নৈরাজ্য নিয়ে এখনও শঙ্কা রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। আগতদের কাছ থেকে এই দুই সেক্টরে গলাকাটা বাণিজ্যের একটি নৈরাজ্য সবসময়ে চলে আসছে। তারপরও সবশেষে অনেক কাঙ্ক্ষিত এই কার্ণিভাল কুয়াকাটা ও দূর্গাপূজাকে ঘিরে পাঁচদিনের বিভিন্ন ইভেন্টকে ঘিরে কুয়াকাটা এখন নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে আছে। লাখো পর্যটককে বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে