উৎসব যেন উৎসবের মতো হয়

শান্তিপূর্ণ আয়োজনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে: ইউএনও

এফএনএস (একে কুদরত পাশা; দিরাই, সুনামগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম
শান্তিপূর্ণ আয়োজনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে: ইউএনও

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সকিনা আক্তার বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে  “আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করবো। আমার আশা করি, সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে উৎসব সফল করতে সহযোগিতা করলে সুন্দর উৎসব হবে। উৎসব যেন উৎসবের মতো হয় এ বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

বৃহস্পতিবার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদ্যাপনের লক্ষ্যে পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্বম্ভরপুর পিএফজির উদ্যোগে এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, “আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন, আমরাও আপনাদের সহযোগিতা করব। সবার উদ্দেশ্য একটি সফল উৎসব আয়োজন করব। দশমীর দিনে শান্তিপূর্ণভাবে আমরা এ উৎসবের সমাপ্তি করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “সবার জীবনে শান্তি বর্ষিত হোক। অন্যায়-অমঙ্গল যা কিছু আছে, সবার জীবন থেকে মুছে যাক। উৎসবে প্রার্থনা হোক-আগামী এক বছর আমাদের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকুক।” এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ায় পিএফজিকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইউএনও বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব উদ্যাপনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত সভায় পিস অ্যাম্বাসেডর আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এবং পিএফজির সমন্বয়কারী ফুলমালা ও ইয়ুথ পিস অ্যাম্বাসেডর গ্রুপের (ওয়াইপিএজি) সদস্য সামছুল কবিরের যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের এমআইপিএস প্রকল্পের কুদরত পাশা। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ উল্লাহ, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছবাব মিয়া, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হাই, আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওয়াসি উদ্দিন আহমদ ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা শিল্পী রানী।

সভায় পিএফজি সদস্যরা বলেন, রাজনৈতিক, জাতিগত ও ধর্মীয় সহিংসতা কমিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনে তাঁরা কাজ করছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও পূজা চলাকালে উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তাঁরা। সবার লক্ষ্য, পূজা যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন কুমার বর্মণ, পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সুমন চক্রবর্তী, ফতেপুর পূজামণ্ডপের সভাপতি নীলু দাস, বাঘমারা পূজামণ্ডপের রাধাকান্ত দাস, রঙ্গিয়ারচর পূজামণ্ডপের সজল, কৃষ্ণনগর পূজামণ্ডপের উপদেষ্টা দয়াল বর্মণ, পূজা সংঘের সভাপতি অমর বর্মণ, রায়পুর পূজামণ্ডপের সভাপতি উপানন্দ বর্মণ ও সাধারণ সম্পাদক চম্পক বর্মণ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন  পিএফজি সদস্য সিরাজ খন্দকার, ফুল মিয়া, জুবায়ের আহমদ জুলহাস, আব্দুস সামাদ, নাছির উদ্দিন ও গোলাপ মিয়া এবং ওয়াইপিএজির সদস্য শিপু আহমদ, মিনারা আক্তার, সুইটি পাল ও শান্তনা আক্তারসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, উদার, অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী ও সহনশীল সমাজ গঠনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিকাশ, সহিংসতা নিরসন, জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় পিএফজি কাজ করে যাচ্ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে