হুথি-সৌদি সংঘাতে অনিশ্চয়তার মুখে শ্রমবাজার, বিকল্প পথ খুঁজতে হবে

এফএনএস | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
হুথি-সৌদি সংঘাতে অনিশ্চয়তার মুখে শ্রমবাজার, বিকল্প পথ খুঁজতে হবে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতায় শ্রমবাজার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। জনশক্তি রফতানির সর্ববৃহৎ দেশ সউদী আরবে হুতিদের আগ্রাসী হামলা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটিতে কর্মরত পঁচিশ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মীর মাঝে উৎকন্ঠা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। গত শনিবার সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২৪ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার জেরে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিপাকে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী হাজারো শ্রমিক। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো, এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি ধাক্কা লাগতে পারে দেশের অর্থনীতিতেও। কূটনৈতিক তৎপরতার অভাবে বন্ধকৃত শ্রমবাজার চালু এবং নতুন নতুন শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণে কোনো সাড়া মিলছে না। শ্রমবাজারে ভাটার টান অব্যাহত থাকলে আগামীতে রেমিট্যান্স খাতেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। একাধিক অভিজ্ঞ মহল এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে বন্ধ শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়নি, অন্যদিকে বিদেশে কর্মী প্রেরণে প্রবৃদ্ধি না হওয়ায় দেশের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এখনো বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে উল্লেখযোগ্য সফলতার মুখ দেখেনি। বিদেশের মিশনগুলোতে ফ্যাসিস্টদের অনেক দোসর এখনো বহাল তবিয়তে। ফলে এসব দোসররা শ্রমবাজার সমপ্রসারণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের প্রাক্কালে ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি লোককে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবেন। কিন্তু সরকারের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্টদের দোসরদের অসহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর টার্গেট পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ‘যুদ্ধের কারণে সৌদি আরবে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। বাসাভাড়া, খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বেড়ে গেলে তাদের সঞ্চয় কমে আসবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্সে। একই সঙ্গে সৌদি অর্থনীতিতে কোনো ধরনের সংকোচন দেখা দিলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশীদের আয় ও কর্মসংস্থানেও চাপ তৈরি হতে পারে। প্রতি বছর বাংলাদেশের শ্রমশক্তির একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যায় এবং তাদের উল্লেখযোগ্য অংশের গন্তব্য সৌদি আরব। ফলে সৌদির শ্রমবাজারে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও বাংলাদেশের নতুন কর্মসংস্থান ও শ্রম রফতানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ আর তাই চলমান সহিংস পরিস্থিতির দিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধান করতে হবে। 

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে